বৈচিত্র্যময় কিছু জনগোষ্ঠীর কথাঃ বুশম্যান

আদিবাসী,গোত্র বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে এমন এক ধরণের জাতিকে বোঝায় যারা কোন রাষ্ট্র গঠন করতে পারেনি কিন্তু রয়েছে তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, আচার, রীতি ইত্যাদি। সমগ্র পৃথিবী জুড়েই বিভিন্ন দেশে-মহাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে এরকম অসংখ্য গোত্র। নিজেদের সংস্কৃতি আর রীতিনীতি দিয়ে এরা একটা দেশের সমাজব্যবস্থাকে করে তোলে আরও বৈচিত্রময়। এরকম কিছু গোত্র নিয়েই এই আয়োজন। প্রথম পর্ব বুশম্যান নিয়ে।

‘দ্য গড মাস্ট বি ক্রেজি’ নামের এই জনপ্রিয় মুভিটি যারা দেখেছেন তারা খুব সহজেই চিনতে পারবেন বুশম্যানদেরকে। আফ্রিকার দুর্গম কালাহারি মরুভূমিতে বসবাস করা এই জাতি সম্পর্কে অনেক বৈচিত্রময় আর আকর্ষণীয় দিক তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়।

বুশম্যানদের স্যান পিপল, স্যান, বাসারা, কাং, খোয়ে ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়ে থাকে।আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, লেসোথো, মোজাম্বিক, সোয়াজিল্যান্ড, বতসোয়ানা, নামিবিয়া এবং অ্যাঙ্গোলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই জনগোষ্ঠী বসবাস করে। তবে এরা সাধারণত ছোট ছোট দলে বাস করে। একটি দলে একটি বা কয়েকটি পরিবার থাকতে পারে।

কালাহারি মরুভূমির ভয়ংকর শুষ্ক পরিবেশে অত্যন্ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয় বুশম্যানদের।

 মরুভূমিতে উদ্ভিদ কম থাকায় এরা মূলত শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। মরুভূমির দুর্গম পরিবেশে কিভাবে টিকে থাকতে হবে তা তারা শেখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে। এর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পানি ও খাবারের সন্ধান। অতি অল্প সময়ের জন্যে আসা বর্ষা ও বন্যার জলকে সংগ্রহ করে সারা বছর ধরে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে তারা।গাছের বিভিন্ন তন্তু থেকে এরা পানি সংগ্রহ করে। উটপাখির ডিমের মধ্যে পানি জমিয়ে তা বালির নিচে পুঁতে রাখে ভবিষ্যতে ব্যবহার করার জন্য।

বড়দের কাছ থেকে শিকারের নানা কৌশল শেখে ছোটরা। বুশম্যানরা মূলত লাঠি, কুঠার, তীর-ধনুক এসব সাধারন অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে শিকার করার সময়। অস্ত্রের মাথায় এরা বিষ ব্যবহার করে শিকারকে সহজে ঘায়েল করার জন্য। হরিণ, বানর, এন্টিলোপ, মহিষ বুশম্যানদের প্রিয় শিকার।

বুশম্যানরা খেলাধূলা এবং অবসরকালীন বিনোদনে অভ্যস্ত। সময় কাটাতে আলাপ-আলোচনা, স্ফূর্তি-মজা করা, গান করাসহ উদ্যাম নৃত্যে মেতে উঠে তারা।