মরছে চীনা যুবকরা : জেনে রাখুন ধূমপায়ীদের হিসেবে দেশের অবস্থান

489

স্বাস্থ্য বিষয়ক পত্রিকা ‘দ্য লেনসেট’ তাদের এক গবেষণায় জানিয়েছে, চীনে প্রতি ৩ জন যুবকের মধ্যে একজন মারা যায় ধূমপান সংক্রান্ত জটিলতায়। আর এ সূত্র ধরে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি বছর ২০ লাখ চীনা নাগরিক ধূমপানের কারণে মৃত্যুবরণ করবে।

ব্রিটিশ এ পত্রিকাটি আরও জানায়, চীনের দুই-তৃতীয়াংশ যুবক ২০ বছরের আগেই ধূমপান শুরু করে। আর এ অভ্যাস ত্যাগ না করলে এদের মধ্যে অর্ধেকেই ধূমপানের কারণে মারা যাবে।

ClassTune

১৯৯০ এবং ২০১৫ সালে এ বিষয়ে ২টি জরিপ চালানো হয়। ১৯৯০ সালে আড়াই লাখ পুরুষ এবং ২০১৫ সালে ৫ লাখ নারী ও পুরুষকে নিয়ে জরিপটি করা হয়। জরিপে দেখা যায়, ২০১০ সাল নাগাদ প্রায় ১০ লাখ মানুষ ধূমপানের কারণে মারা গেছে।

এদের মধ্যে ৮ লাখ ৪০ হাজার পুরুষ এবং বাকিরা নারী। এছাড়া চীনে ৪০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

রিপোর্টে বলা হয়, তামাকের কারণে মৃত্যুর যে সংখ্যা ২০১০ সালে ১০ লাখ ছিল তা ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

তবে আশার কথা হচ্ছে, ধূমপান বন্ধে ইতোমধ্যেই চীন কিছু উদ্যোগ নিয়েছে যেগুলো সফলতার মুখ দেখছে। চীনের বেইজিংয়ে বাস, রেস্তােঁরা ও অফিসে গত সপ্তাহ থেকে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ এই আইন অমান্য করলে তাকে ২০০ ইয়েন ( প্রায় ৩২.২৫ ডলার) জরিমানা গুনতে হবে।

যদিও পূর্বে এ ধরণের অপরাধের জন্য মাত্র ১০ ইয়েন (১.৬০ ডলার) জরিমানার বিধান ছিলো। কিন্তু ধূমপান বন্ধের উদ্যােগ হিসেবে নতুন গেজেটে এই জরিমানার পরিমান ২০ গুণ বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে চীনে কর্মজীবী যেসব নারীরা আছেন তাদের ধূমপানের পরিমাণ বেশি বয়সী নারীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। ১৯৩০ সালের দিকে জন্ম নেয়া নারীদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ধূমপান করেন যেখানে ১৯৬০ এর দিকে জন্ম নেয়া নারীদের মধ্যে ধূমপান করেন মাত্র ১ শতাংশ। এর ফলে নারীদের ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমছে।

এর পাশাপাশি ধূমপান ত্যাগ করা মানুষের পরিমাণ ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালে ৩ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তবে ধূমপায়ীর হিসেবে এগিয়ে আছে গ্রীস, সার্বিয়া ও বুলগেরিয়া। বছরে এসব দেশে প্রতি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গড়ে সিগারেট গ্রহণের সংখ্যা যথাক্রমে ২ হাজার ৯৯৬, ২ হাজার ৯২৪ ও ২ হাজার ৮২২টি।

তালিকার শেষে রয়েছে কিরিবাতি, সলোমন আইল্যান্ড ও গিনি। বাংলাদেশ রয়েছে তালিকার ১৪২ নম্বরে। এদেশে বছরে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গড়ে সিগারেট গ্রহণের সংখ্যা গড়ে ১৫৪টি।