সঙ্গীতের রকমফেরঃ পপ সঙ্গীত

11-yic-pop-essay.w710.h473
ছবি : সংগৃহীত

সঙ্গীতের রয়েছে নানা ধরণ, নানা স্বাদ। মানুষের ভিন্ন ভিন্ন পছন্দের কারণে গানের ধরণও বৈচিত্র্যময় হয়। আবার মনের অবস্থার উপরও মানুষের গানের পছন্দ নির্ভর করে। তাই ফোক, রক, মেটাল, পপ, জ্যাজ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের গানের জন্ম হয়েছে। ভিন্ন রকমের কথা, সুর, তাল, বাদ্যযন্ত্র দিয়ে এসব গানে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। এরকম বিভিন্ন ঘরানার গান সম্পর্কে জানতেই আমাদের এই আয়োজন। আজকে জানবো পপ গান নিয়ে।

 

Safe Internet

পঞ্চাশ এবং ষাট দশকের দিকে পশ্চিমা দেশগুলোতে এক নতুন ধরণের গান জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এর নাম পপ মিউজিক। পপুলার মিউজিক থেকেই এই নাম এসেছে। অনেকে পপ মিউজিককে রক এন্ড রোল মিউজিকের অংশ বলেও মনে করেন। কেউ কেউ পপ গানকে ফোক এবং ফাইন আর্ট গানের সংমিশ্রণ বলে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

আরবান, ল্যাটিন, রক আর কান্ট্রি মিউজিকের সব ভালো উপাদানগুলো নিয়ে পপ মিউজিকের ধরণ গঠিত হয়েছে। পপ গান সাধারণত মাঝারি দৈর্ঘ্যের হয়। গানের কথা সাজানো হয় ভার্স-কোরাস গঠনে। এতে কোরাসের পুনরাবৃত্তি থাকে, মেলোডিক টিউনও থাকে। পপ মিউজিকের মধ্যেও ধরণ থাকে যেমন পপ ফোক, পপ রক, পপ ফাঙ্ক, পপ র‍্যাপ ইত্যাদি।

১৯২৬ সনে প্রথম কোন পপ গান রেকর্ড করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী, ১৯৫০ এর শেষের দিকে এই ধরণের গান ইউরোপ ও আমেরিকায় জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। বিটলস, রোলিং স্টোনের মত ব্যান্ডগুলো পপ মিউজিককে জনপ্রিয় করে তোলে।

তবে পপ গানকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছেন মাইকেল জ্যাকসন যার জন্য তাকে পপ সম্রাট বলে ডাকা হয়। ম্যাডোনাও পপ শিল্পী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। এছাড়াও সমসাময়িক শিল্পীদের মধ্যে ক্যাটি পেরি, টেইলর সুইফট, জাস্টিন বিবার, সেলেনা গোমেজও পপ ঘরানার গান করে থাকে।

মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয় গান ‘বিট ইট’ শুনতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলাদেশে পপ গান জনপ্রিয়তা পায় আশির দশকের শেষ দিকে। পপ গুরু আযম খান এবং ফেরদৌস ওয়াহিদ পপ গানকে জনপ্রিয় করে তোলেন। এখনকার সময়ে হাবিব ওয়াহিদ, তিশমা, কণা, মেহরিন, তাহসান এরাও পপ গান গেয়ে থাকেন।

আজম খানের জনপ্রিয় পপ গান ‘আলাল ও দুলাল’ শুনতে এখানে ক্লিক করুন