বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিচিতি : লুঝনিকি স্টেডিয়াম

luzhniki-stadium-moscou
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত ক্রীড়া স্টেডিয়াম হলো লুঝনিকি স্টেডিয়াম। বর্তমানে স্টেডিয়ামে আসন সংখ্যা ৭৮ হাজার ৩৬০। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম ভেন্যু লুঝনিকি স্টেডিয়াম।

মস্কো শহরের খালোভনিকি জেলার অবস্থিত লুঝনিকি অলিম্পিক কমপ্লেক্সের অংশ এটি। মূলত মস্কোভা নদীর বাঁকে জন্মানো সুগভীর তৃণক্ষেত্র থেকে ‘লুঝনিকি’ নামটির উৎপত্তি ঘটেছে।

Safe Internet

আগে পিএফসি সিএসকেএ মস্কো, টর্পেডো মস্কো ও স্পার্তাক মস্কো ফুটবল ক্লাব এখানে অনুশীলন করতো। বর্তমানে এটি মূলতঃ রাশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলনে ব্যবহার করা হয়। ইউরোপীয় ঘরানার স্বল্পসংখ্যক প্রধান স্টেডিয়ামগুলোর মতো ২০০২ সাল থেকে এখানে ফিফা অনুমোদিত ফিল্ডটার্ফ কৃত্রিম পিচ ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০০৮ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে অস্থায়ীভিত্তিতে প্রাকৃতিক ঘাসের পিচ প্রতিস্থাপিত হয়েছিলো। এছাড়াও, স্টেডিয়ামটিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

স্টেডিয়ামের ইতিহাস
১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম নামে এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৫৬ সালের ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করা হয়। এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের জাতীয় স্টেডিয়ামের মর্যাদা পেয়েছিলো। পরবর্তীতে রাশিয়ার জাতীয় স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত হয়।

১৯৮০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের প্রধান মাঠ ছিলো এটি। ঐ সময় দশর্ক ধারণ সংখ্যা এক লাখ তিন হাজার। এখানে উদ্বোধনী ও সমাপণী অনুষ্ঠানসহ অ্যাথলেটিকস, ফুটবল ফাইনালসহ কয়েকটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম নাম বাদ দিয়ে ১৯৯২ সালে ‘লুঝনিকি স্টেডিয়াম’ নামকরণ করা হয়। এছাড়া ১৯৯৬ সালে স্ট্যান্ডের উপর ছাদ নির্মাণের কারণে আসন সংখ্যা কমানো হয়।

এই মাঠে ২০০৮ সালের ২১ মে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনাল ও ২০১৩ সালের ১০ থেকে ১৮ আগস্ট বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশীপ আসন অনুষ্ঠিত হয়।

luzhniki-stadium-2
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮
এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালসহ মোট ১২টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে লুঝনিকি স্টেডিয়াম। ইতিমধ্যে লুঝনিকি স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়েছে এবং পদক্ষেপ নিয়েছে।

অন্যান্য ইতিহাস
১৯৫৭ সালে আইস হকি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় সুইডেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মোকাবেলা করে। এতে ৫৫,০০০ দর্শক উপস্থিত থেকে নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছিলো। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহের মধ্যে রয়েছে ১৯৭৩ সালের গ্রীষ্মকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া, ১৯৮৯ সালে মস্কো সঙ্গীত শান্তি উৎসব ও ১৯৯৮ সালের বিশ্ব যুব ক্রীড়ার উদ্বোধনী আসর।

২০১৩ সালের রাগবি বিশ্বকাপ সেভেন্স এ মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব রুবন কাজান উয়েফার মানদণ্ডে উপনীত না হওয়ায় এ মাঠ ব্যবহার করে।

১৯৯৩ সালের ড্যাঞ্জেরাস ট্যুরে মাইকেল জ্যাকসন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর রোলিং স্টোন্স, ম্যাডোনা, মেটালিকা, কিনো, ইউ২ ব্যান্ড দলগুলো এ স্টেডিয়ামে সঙ্গীত পরিবেশন করে।

১৯৮২ সালের ২০ অক্টোবর এফসি স্পার্তাক মস্কো ও এইচএফসি হারলেমের মধ্যকার খেলায় দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। পদদলিত হয়ে ৬৬ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে, যা রাশিয়ার নিকৃষ্টতম ক্রীড়া দূর্ঘটনা হিসেবে ঐ সময়ে পরিগণিত হয়।

একনজরে লুঝনিকি স্টেডিয়াম
প্রাক্তন নাম : সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম (১৯৫৬-১৯৯২)
অবস্থান : মস্কো, রাশিয়া
মালিক: মস্কো সরকার
অপারেটর: লুঝনিকি অলিম্পিক স্পোর্ট কমপ্লেক্স জেএসসি
ধারণক্ষমতা: ৭৮,৩৬০ (বর্তমান)
উন্মোদন: ৩১ জুলাই, ১৯৫৬
স্থপতি: পিএ অ্যারিনা, জিএমপি আর্কিটেকটেন ও মসপ্রজেক্ট-৪
ভাড়াটিয়া: ইউএসএসআর/রাশিয়া জাতীয় ফুটবল দল (১৯৫৬-বর্তমান)

তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া