যেসব ওয়েবসাইট ও অ্যাপস ব্যবহারে অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি

kid-with-tablet
ছবি : সংগৃহীত

নিচে যে ওয়েবসাইট ও অ্যাপসগুলোর বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সকল অভিভাবকের উচিত সেগুলোর বয়সসীমা সংক্রান্ত নিয়মাবলী দৃড়ভাবে অনুসরণ করা।

ফেসবুক
ফেসবুক অনলাইনে সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের পোস্ট, ছবি ও লেখা শেয়ার করতে পারে, এমনকি তারা এখানে কেনাকাটাও করতে পারে। ফেসবুকে কোন কিছু শেয়ার, লাইক বা কেনাকাটার বিষয়ে ব্যবহারকারীদের ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে বন্ধুবান্ধব ও পরিবার পরিজনদের সাথে যোগাযোগের জন্য ফেসবুক খুবই ভালো একটি যোগাযোগ মাধ্যম। অভিভাবকদের খেয়াল রাখা উচিত যে তের বছরের কমবয়সী শিশুরা যেন ফেসবুক ব্যবহার না করে। যদি ব্যবহার করে তাহলে যেন তাদের একটি প্রাইভেট প্রোফাইল থাকে যা অভিভাবকরা সবসময় পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

আমার সন্তান যেন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে বেশি বেশি ছবি বা পোস্ট শেয়ার না করে তা কিভাবে নিশ্চিত করবো?

ClassTune

দুইভাবে চেষ্টা করে দেখুন। প্রথমে লক্ষ্য করবেন ওভারশেয়ারিং-এর মাধ্যমে আপনার সন্তান কোন বিপদে পড়তে পারে কিনা। আগে আপনার সন্তানের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন। তাদের সাথে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবহার করলে পরিলাম ভালো নাও হতে পারে। আপনার সন্তান ও তাদের বন্ধুরা কোন ধরণের পোস্ট শেয়ার করে তা জানার চেষ্টা করুন। তাদের ভালো লাগে না এমন কোন পোস্ট যেন তারা শেয়ার করতে বাধ্য না হয়। ওভারশেয়ারিং- এর ঝুঁকিগুলো নিয়ে আলাপ করুন। তাদেরকে বলুন এর ফলে তাদের মর্যাদাহানি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, প্রাইভেসি সেটিংসগুলো চেক করুন। শিশরা সাধারণত তাদের কর্মকান্ডের পরিণাম নিয়ে ভাবে না। এ কারণেই প্রাইভেসি সেটিংসগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাইভেসি সেটিংসগুলো ঠিক না থাকলে তারা নিজের অজান্তেই ভুলভাবে কোন পোস্ট শেয়ার করে বসবে। (সূত্র : কমনসেন্স মিডিয়া)

ইউটিউব
ইউটিউব পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। ইউটিউব অনেকটা ইন্টারনেট টেলিভিশনের মতো যেখানে আপনি ও আপনার সন্তান যখন ইচ্ছা যেকোন ধরণের ভিডিও দেখতে পারেন। এটা যেন এক অফুরন্ত লাইব্রেরি যাতে ভিডিও, টিভি ক্লিপস, মুভি, মিউজিক ভিডিও, শিক্ষামূলক ভিডিও ইত্যাদি অনেক কিছুই থাকে। ইউটিউব সম্পর্কে একটি ব্যাপার মনে রাখা দরকার, আর তা হলো এখানে যে কেউ অ্যাকাউন্ট খুলে ভিডিও আপলোড করতে পারে। যে কেউ এই ভিডিওগুলো দেখতে পারে, কিন্তু রেজিস্টার্ড ইউজাররা চ্যানেল তৈরি করতে পারে এবং সেখানে তারা তাদের ইচ্ছেমতো ভিডিও আপলোড করে। আঠার বছর হয়েছে এমন ঘোষণা দেয়া রেজিস্টার্ড ইউজাররা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত কনটেন্টগুলো দেখতে পারে। তবে উৎসাহী শিশরাও ইচ্ছা করলে খুব সহজেই এগুলো দেখতে পারে। শিশুদের এই অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহারের সময় আপনার উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

স্যাট্রুলেট
এই আকর্ষণীয় প্লাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের ওয়েব ক্যামেরার সাহায্যে চ্যাট করার সুযোগ দেয়। এটি ভিডিওর মাধ্যমে ডেটিং করার মতো একটি প্লাটফর্ম। যদিও অনেক ব্যবহারকারীর কাছে এটি নিরাপদ মনে হয়, কিন্তু স্যাট্রুলেটের অন্তরঙ্গতা অপরিচিত লোকজনকে ব্যবহারকারীর একান্ত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আসতে পারে, তাই শিশুদের এর থেকে দূরে রাখার ভালো।

আস্ক, এফএম
আস্ক, এফএম হচ্ছে এমন এক সোশ্যাল সাইট যেখানে ব্যবহারকারী বন্ধুবান্ধব ও অপরিচিত ব্যক্তির বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়। প্রশ্নগুলো নিরীহ ধরণের হতে পারে আবার বয়স, ঠিকানা, ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কিতও হতে পারে যা অপরিচিত লোকজনের সাথে শেয়ার না করাই উত্তম। প্রকৃতিগত দিক দিয়ে ওয়েবসাইটটি অজ্ঞাতনামা বা এখানে নাম পরিচয় গোপন রাখা যায়। এখানে এমন কিছু প্রশ্ন করা হয় (এবং উত্তরও) যা অপ্রীতিকর মনে হতে পারে। ফলে এখানে এই প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে অনেক কিছুই ঘটতে পারে- যেমন উত্যক্ত করা, ত্রুটিপূর্ণ আচরণ এবং অনেক ব্যক্তিগত তথ্যের সমাগম। তাই এই সাইট থেকে দূরে রাখা ভালো।

ইনস্টাগ্রাম
এটি এমন একটি অ্যাপ যা আপনার শিশুর মধ্যে আত্ম প্রশ্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতা মিলিয়ে এক ক্ষতিকর মানসিক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা অধিকাংশ ছবি হচ্ছে সেলফি যা নিজের বা বন্ধুবান্ধবের তোলা। ব্যবহারকারীর ‘ফলোয়ার’ হলে যে কেউ এই ছবিগুলো দেখতে, এগুলোতে লাইক দিতে বা মন্তব্যও করতে পারে। ফলোয়াররা অনেক নেতিবাচক মন্তব্যও করতে পারে কারণ তরুণ-তরুণীরা সুইস্যুট বা আন্ডারওয়্যার পরিহিত ছবিও পোস্ট করতে পারে। এর সবকিছুই আত্মমর্যাদার মত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো পোস্ট করা হয় এই আশায় যে, ছবিগুলো সবাই পছন্দ করবে এবং এগুলো সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করবে।

টিন্ডার
যদিও এই অ্যাপ সতেরো বা তার বেশি বয়সের জন্য প্রযোজ্য, তারপরেও টিন্ডারের প্রাইভেসি পলিসি তের বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদেরও সদস্য হবার সুযোগ দেয়। টিন্ডার মূলত একটি ডেটিং টুল এবং প্রোফাইল ছবিগুলো শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য। অভিভাবকদের এই বিষয়ে সচেতন থাকার উচিত কারণ টিন্ডারের মাধ্যমে শিশুরা সহজেই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের শিকার হতে পারে।

ভক্সার
ভক্সার হলো তাৎক্ষণিক যোগযোগের একটি প্লাটফর্ম। চার বছর বয়সী শিশুরাও এই ওয়াকিটকি অ্যাপটি ডাউনলোড করে ভয়েস মেসেজ আদান-প্রদান করতে পারে। যেহেতু এই অ্যাপটিতে মেসেজ রেকর্ড করা যায় তাই এখানে উত্যক্ত করার সুযোগ আরও বেশি, কেননা রেকর্ড করা মেসেজগুলো গ্রুপের সদস্যদের শুনিয়ে পরবর্তীতে কাউকে হেনস্তা করা সম্ভব।

ইক ইয়াক
আপনার শিশুকে অবশ্যই এই অ্যাপ থেকে দূরে রাখতে হবে। ইক ইয়াক ব্যবহারকারী একে অপরের কাছে অপরিচিত থাকে। কারা এতে কনটেন্ট পোস্ট করছে তা দেখা প্রায় অসম্ভব। ইক ইয়াকের নিউজ ফিডগুলো এর ব্যবহারকারীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ব্যবহারকারীরা পোস্টগুলোর জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্য ভোট দিতে পারে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই এই অ্যাপটি বেশি ব্যবহার করে, কম বয়সীদেরও মাঝে মাঝে এতে মন্তব্য করতে দেখা যায়। ১৭ বছরের কম বয়স্কদের কোনভাবেই এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে দেয়া উচিত না।

হোয়াটসঅ্যাপ
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি একটি খুবই প্রয়োজনীয় অ্যাপ। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে মেসেজ ও ছবি পাঠানোর সুযোগ করে দেয়।

স্ন্যাপচ্যাট
স্ন্যাটচ্যাটের মাধ্যমে বার বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীরা ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারে। যেহেতু ছবি ও ভিডিওগুলো রিসিভড হওয়ার দশ সেকেন্ডের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায় তাই এটি শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত কনটেন্ট পাঠানোর একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। তবে এটি জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে স্ন্যাপচ্যাটে পাঠানো ছবি ও ভিডিওগুলো ডিভাইস থেকে সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় না।

ভাইন
এটি একটি ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ। ভাইনের মাধ্যমে একদিকে যেমন শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা যায়, তেমনি এর মাধ্যমে প্রিয় পোষা প্রাণী, শিশুতোষ ছবি ও ভিডিও আদান প্রদান করা যায়।

কিক মেসেঞ্জার
এটি তাদের জন্য যাদের বয়স সতের বছরের বেশি। কিক মেসেঞ্জার ডাউনলোড করতে বয়স যাচাই করার প্রয়োজন হয় না। এই মেসেঞ্জার অ্যাপটি একটি ইউজার নেম দিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে ব্যবহারকারীর ফোন নাম্বার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। এই কারণে এই অ্যাপটির মাধ্যমে ছোটদের অনুপযোগী মেসেজ আদান-প্রদান এবং অনলাইনে উত্যক্তকরণের সুযোগ বেশি।

শটস অব মি
এই অ্যাপটি শুধুমাত্র অ্যাপল ডিভাইসে ব্যবহার করা যায়। সেলফি তুলতে পছন্দ করে এমন তরুণদের মধ্যে এই অ্যাপটি বেশ জনপ্রিয়, যদিও এর ব্যবহারকারীরা ছবির উপর কোন মন্তব্য করতে পারে না। এই অ্যাপটির মাধ্যমে সহজেই একজন ব্যবহারকারীর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব।