ভ্রমণের কিছু টিপস

Travel as a couple
ছবি : সংগৃহীত

ঘুরতে আমরা কে না পছন্দ করি? পরিবার-পরিজন বা বন্ধুর সাথে ছুটি কাটাতে দেশের ভিতর বা বাইরে ভ্রমন করা প্রতিটি মানুষের জন্যই আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। পরিবার নিয়ে ঘুরতে গেলে ভ্রমণের আগে এবং ভ্রমণের সময় ছোট ছোট কিছু ব্যাপারে সতর্ক থাকলে পুরো সময়টাই আরও আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।

আসুন জেনে নিই তেমনই কিছু বিষয়।

ClassTune

ভ্রমণের পূর্ব পরিকল্পনা:

• ভ্রমণের পূর্বে পরিবারের সব সদস্যদের কাছে তাদের মতামত জিজ্ঞেস করুন। সেই হিসেবে ভ্রমন পরিকল্পনা করুন। সন্তান কিশাের বয়েসী হলেও তাকে জিজ্ঞেস করুন সে ছুটিতে কী করতে চায়, কোথায় যেতে চায়। আপনাদের সাধ্য ও বাজেট তাকে বুঝিয়ে দিন।

দেখবেন আপনি অবাক হয়ে আবিষ্কার করবেন, যে আপনার সন্তান সারাদিন কম্পিউটার, মোবাইল বা গেমসের বাইরেও ভ্রমন সংক্রান্ত আনন্দের জন্য কতটা উৎসাহী হয় এবং কত ধরনের পরিকল্পনা তারা করতে পারে! বাচ্চাদের মতামত নেওয়া হলে, তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হয়, এবং তারা বাস্তবসম্মত অনেক কিছু চিন্তা করতে শুরু করে।

• ভ্রমণের জন্য এমন একটি জায়গা বেছে নিন ও এমন পরিকল্পনা তৈরি করুন যা পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য উপযুক্ত হবে ও সকলেই তা পছন্দ করবে।

• দেশের বাইরে ভ্রমন করলে যেখানে যাচ্ছেন সেখানে কী কী দর্শনীয় স্থান আছে তার একটা খসড়া প্রস্তুত করুন। এরপর যেসকল দর্শনীয় স্থানে যাওয়া আপনার জন্য সুবিধাজনক তা নির্বাচন করে একটি পরিকল্পনা তৈরি রাখুন।

• বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষার টুকটাক কথাবার্তা নিজে শিখে নিন। সম্ভব হলে আপনার সন্তানকেও শেখান। এই বিষয়টি আপনাদের ভ্রমনকে অনেক সুবিধাজনক করে তুলবে।

প্যাকিং:

• প্রথমে একটি লিস্ট তৈরি করে নিন। কতদিনের জন্য যাচ্ছেন সেই অনুযায়ী কী পরিমান জিনিস এর প্রয়োজন হবে তা লিস্ট অনুযায়ী গোছানো শুরু করুন।

• যেখানে ঘুরতে যাবেন, সেখানকার আবহাওয়া অনুযায়ী কাপড় নিন।

• কাপড় ভাঁজ না করে কাপড় পেঁচিয়ে অর্থাৎ রোল করে রাখুন। এতে করে আপনার সুটকেসে অনেক জায়গা থাকবে ও বেশি জিনিস আঁটানো সম্ভব।

• অবশ্যই মনে করে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্যাক করুন ও সুটকেসের এমন জায়গায় রাখুন যেন সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়।

• পুরনো চশমার কেস-এ হেডফোন ও চার্জার রাখুন। তাতে তার জট পাকাবে না।

• শাওয়ার ক্যাপ-এর ভিতরে আপনার নোংরা জুতা জোড়া রাখুন।

• যে কোনো তরল দ্রব্য যেমন শ্যাম্পু, লোশন ইত্যাদির বোতলের মুখে প্লাস্টিক পেঁচিয়ে এরপর মুখ আটকে দিন। এটি তরলটিকে বের হতে অর্থাৎ লিক করা থেকে আটকাবে। বাড়তি সতর্কতার জন্য বোতলের মুখে টেপ ও লাগিয়ে রাখতে পারেন।

• সুগন্ধি সাবানের ছোট্ট একটি টুকরা আপনার সুটকেসে রাখুন। এতে আপনার কাপড় যে কোন রকম দুর্গন্ধ মুক্ত থাকবে।

• প্রত্যেক সদস্য পৃথকভাবে ব্যাগপ্যাক নিন। এমনকি আপনার সন্তানদেরও আলাদা আলাদা ব্যাগ দিন। যেখানে যার যার নিজস্ব জিনিস থাকবে। কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার সন্তান ব্যাগে কী কী নিচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ব্যাগ ভারী করলে পরবর্তীতে তারই কষ্ট হবে।

• আপনার সন্তানের বয়স ৯ বছরের নিচে হলে তার জন্য কিছু খেলনা নিন। যাতে হঠাৎ তার খেলনাগুলোর কথা মনে পড়ে যেন মন খারাপ না হয়। এছাড়া ভ্রমণের সময় লম্বা যাত্রা কাটানোর জন্য খেলনা কাজে লাগবে।

• বিভিন্ন অ্যাপ সমৃদ্ধ গ্যাজেট আপনার লম্বা যাত্রাকালীন একঘেয়েমী ভাব থেকে দূরে রাখবে।
ভ্রমণ সংক্রান্ত কিছু সতর্কতা:

• দেশের বাইরে ভ্রমন করলে অবশ্যই সবসময় আপনার এবং সন্তানের পাসপোর্ট সঙ্গে রাখুন।

• জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি নিজের ও সন্তানের ব্যাগ এ রাখুন।

• চ্যাপস্টিকের খালি কৌটায় টাকা ভরে নিজের ও সন্তানের কাছে রাখুন। বিপদের সময় কাজে লাগবে।

• একটি ছোট হ্যাণ্ড ট্যাগে মোবাইল নাম্বার লিখে সন্তানের হাতে তা ঝুলিয়ে দিন।

• আপনার ১৩ বছরের বেশি সন্তানদের আলাদা রুম দিন। তাদের মানসিক প্রশান্তির জন্য নিজস্ব সময়ের প্রয়োজন হয়।

• টিনএজারদের হাতে ক্যামেরা ধরিয়ে দিন। তাদের যে কোনো কিছু দিয়ে ব্যস্ত রাখুন।

• আপনার সন্তান যে বয়সেীই হোক না কেন তাদের নোটবুক দিন। তাদের সব অভিজ্ঞতা নোটবুকে বন্দী করতে উৎসাহিত করুন। বড় হয়ে তাদের কাছে তাহলে স্মৃতির অনেক বড় একটি ভাণ্ডার থাকবে।

• ট্যাক্সি ক্যাব না নিয়ে চেষ্টা করুন বাস বা লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করতে। এতে নতুন শহরটি সম্পর্কে আপনি অনেক কিছু জানতে পারবেন।

• নতুন জায়গায় গেলে, সেই জায়গার পূর্ব ইতিহাস বা যে কোনো গল্প সন্তানকে শোনান। জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে সে জায়গার ইতিহাস জানার ব্যাপারটা সন্তানের কাছে বেশ কৌতূহলপূর্ণ হবে যা পরবর্তীতে তাকে ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আরও আগ্রহী করবে।