ইতিহাস বদলে দেয়া অগ্ন্যুৎপাত

আইসল্যান্ডে প্রায়ই অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে ১৭৮৩ সালের ৮ জুন আইসল্যান্ডে যে ভয়াবহ অগ্নুৎপাত ঘটেছিল তা ছিল রীতিমতো অস্বাভাবিক। আইসল্যান্ডের দক্ষিণের সিডা নামক অঞ্চলে এই অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

অগ্ন্যুৎপাতের পরবর্তী টানা ৮ মাসে ক্লস্টোর শহরের আশপাশের ১৩৫টি ফাটল থেকে ৩.৭ কোয়াড্রিলিয়ন গ্যালন লাভা উদগীরিত হয়। এই লাভা আশেপাশের প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংস করে অসংখ্য ঘরবাড়ি, খেত-খামার। এই ভয়াবহ লাভা উদগিরণ একসময় শেষ হয়।

তবে এই লাভাই আইসল্যান্ডের জন্য একমাত্র হুমকি ছিল না। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রচুর ছাই চারপাশের অঞ্চল এবং সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে। দূষিত হয় মাটি এবং পানি। সেখানকার মানুষ এবং প্রাণীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেসব বিষাক্ত ছাইয়ের কারণে সেবার আইসল্যান্ডের অর্ধেকের বেশি গবাদি পশু এবং চারভাগের একভাগ ভেড়া ও ঘোড়া মারা যায়।

সেখানকার সমুদ্রে শস্য জন্মানো বন্ধ হয়ে যায়, সমুদ্রে মাছের অভাব দেখা দিতে শুরু করে।

স্মরণাতীতকালের সেই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ১৭৮৩-১৭৮৪ সালের দিকে আইসল্যান্ডে ভয়াবহ প্লেগ এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় যার ফলে আইসল্যান্ডের এক-পঞ্চমাংশ মানুষ মারা যায়।

ভয়ংকর এই অগ্ন্যুৎপাতের মাসখানের পর ইউরোপের আকাশ অদ্ভুত এক কুয়াশায় ঢেকে যায়। মানুষের শ্বাস নেয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। বায়ুমণ্ডলে ছাই এবং গ্যাস জমে যাওয়ার ফলে সেটা আর্দ্রতা এবং সূর্যের আলো শুষে নেয়া শুরু করে। এর ফলে বহু বছরের জন্য জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।

আমেরিকা এবং জাপান জানায়, ১৭৮৩ থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত এ ঘটনার ফলে মারাত্মক খরা, অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা এবং ধ্বংসাত্মক বন্যা দেখা দেয়। ১৭৮৩ সালে ইউরোপে গরম ছিল অস্বাভাবিক এবং শীত ছিল তীব্র এবং দীর্ঘমেয়াদি।

এইসব কারণে ইউরোপে শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায় যার ফলে প্রচণ্ড খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ১৭৮৯-১৭৯৯ সালের ফ্রেঞ্চ রেভ্যুলেশনের অন্যতম একটি কারণও ছিল এই সর্বণাশা অগ্ন্যুৎপাত।