উড়ে যায় ফানুস !

sky-lanterm-72

Tangled মুভিটির কথা মনে আছে? রাজকন্যার বাবা হারিয়ে যাওয়া মেয়ের খোঁজে প্রতি বছর মেয়ের জন্মদিনে আকাশজুড়ে হাজার হাজার বাতি উড়িয়ে দিতেন, যেই বাতির উৎস ধরে রাজকন্যা তার হারানো বাবা-মাকে খুঁজে পায়। এই উড়িয়ে দেয়া বাতিগুলো দীর্ঘসময় ধরে জ্বলে, একসময় আস্তে আস্তে নিভে যেতে থাকে। বাংলা পরিভাষায় এই বাতিকে আমরা “ ফানুস ” বলি। ফানুসকে ইংরেজীতে বলা হয় Sky lantern। 

দেখতে সুন্দর এই বাহারি ফানুসের উড়ে যাওয়ার পেছনে আছে চমৎকার এক বিজ্ঞান। চলো দেখে নেই সেটিঃ

ফানুসকে আকাশ প্রদীপ / সুতাবিহীন ঘুড়িও বলা হয়। ফানুস হলো পাতলা কাগজের তৈরি বেলুনসদৃশ বস্তু, যার নিচের অংশ খোলা থাকে। সেই খোলা মুখে দীর্ঘক্ষণ জ্বলে এমন করে শিখা জ্বালানো হয়। সে শিখার গ্যাসে ফোলানো হয় কাগজের ফানুসটি। গ্যাসে পরিপূর্ণ হলেই ফানুস আকাশে উড়তে পারে।

বাতাস যখন তুলনামূলক বেশি গরম থাকে তখন বাতাসে ভাসমান অণুগুলোগুলো একটু দূরে দূরে থাকে। ফানুসের নিচ দিয়ে আগুনের শিখা প্রবেশ করালে এর ভেতরে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায়। এর ফলে হালকা হয়ে এটি উপরের দিকে উঠতে থাকে।

আমরা সবাই জানি, আগুনের শিখার উপরের দিকে যতটা গরম লাগে, এর পাশে ততটা গরম অনুভূত হয় না। কেননা আগুনের পাশে তাপ শুধুমাত্র বিকিরণ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয় এবং আগুনের শিখার উপরে বিকিরণ পদ্ধতি ছাড়াও পরিবহন পদ্ধতিতেও তাপের সঞ্চালন ঘটে। এছাড়া, আগুনের শিখা তাপমাত্রাকে উপরের দিকে নিয়ে যায় ও একইভাবে পাতলা কাগজে তৈরী এই ফানুসগুলোকে এই শিখা উপরের দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করে।

আরেকভাবে বলা যেতে পারে, তাপের সাথে বাষ্পের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ফানুস উড়ানো হয়ে থাকে। আমরা জানি যে, তাপমাত্রা বাড়লে বাষ্পচাপ বৃদ্ধি পায়। আর এই নীতিকে কাজে লাগিয়েই আগুনের ফলে সৃষ্ট বায়ুর ঊর্ধ্বচাপ দ্বারা ফানুস উড়ে যেতে থাকে। ফানুস পাতলা কাগজের তৈরী হওয়ায় সহজেই উড়ে যায়। 

মূলত বাতাস গরম হলে তা উপরে উঠে I ফানুস এর নিচে আগুন থাকে বলে তার ভিতর গরম বাতাস সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে ফানুস উপরে উঠে I

বিভিন্ন উৎসব কিংবা বিশেষ দিবসগুলোতে ইদানিং খুব বেশি ব্যবহার শুরু হয়েছে এই ফানুসের। এছাড়া, চীন, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, পর্তুগাল, ব্রাজিল সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফানুস উৎসব হয়ে থাকে। এছাড়া, প্রবারনা পূর্ণিমা সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারগুলোতে চলে ফানুস ওড়ানোর উৎসব। ধর্মীয় উৎসবের গন্ডি ছাড়িয়ে ফানুস এখন বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।