রক্তের গ্রুপ জানা আছে তো !

blood

আচ্ছা তোমার রক্তের গ্রুপ কি তা কি তোমার জানা আছে ? জানা না থাকলে রক্ত পরীক্ষা করে তা আজই জেনে নাও কোন হাসপাতালে গিয়ে ! কেননা তুমি যদি তোমার রক্তের গ্রুপ জেনে থাকো তবে তোমার আশেপাশের মানুষের বিপদে এগিয়ে যেতে পারবে। চলো আজ জেনে নেয়া যাক কোন গ্রুপের রক্ত কোন গ্রুপকে দেয়া যাবে আর কোন গ্রুপকে না।

আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম উপাদান হচ্ছে রক্ত। শরীরের মোট ওজনের শতকরা ৭ ভাগ রক্ত থাকে। আর সেই রক্তের শতকরা ৯৩ ভাগই থাকে জলীয় পদার্থ দ্বারা তৈরি।

ClassTune

প্রতিটি জীবিত মানুষ জন্মগত সূত্রে শরীরে রক্ত নিয়ে জন্মায়। বিজ্ঞানীরা রক্তের উপাদানগত বৈশিষ্ট্যের বিচারে রক্তকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। রক্তের এই শ্রেণিবিন্যাসকে ব্লাড গ্রুপ (Blood Group) বলা হয়। ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার প্রথম মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন। এই শ্রেণীবিন্যাসকে সংক্ষেপে ABO ব্লাড গ্রুপ বা সংক্ষেপে ব্লাড গ্রুপ বলা হয়।

রক্তের গ্রুপ বিচারের ক্ষেত্রে এ্যান্টিবডি ও এ্যান্টিজেন বিশেষ ভূমিকা রাখে।

এন্টিজেন হল সেই পদার্থ যা সুনির্দিষ্ট এন্টিবডির সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ হয় আর এন্টিবডি হল বিশেষ ধরনের প্রোটিন (আমিষ) যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে।

যে নির্দিষ্ট রক্তে যে এ্যান্টিজেন নেই, শুধু সেই এ্যান্টিবডি সেখানে পাওয়া যাবে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, A ব্লাড গ্রুপ A এ্যান্টিজেন, B ব্লাড গ্রুপে B এ্যান্টিজেন বিদ্যমান। আবার, AB ব্লাড গ্রুপে A ও B উভয় ধরনের এ্যান্টিজেন থাকে। O ব্লাড গ্রুপে রক্তে কোনো এ্যান্টিজেন নেই।

এন্টিজেনের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার পদ্ধতির নাম ABO পদ্ধতি

রক্তের গ্রুপ বের করার পরে আরেকটি ব্যাপার জানা থাকা দরকার যে রক্তের গ্রুপ পজিটিভ না নেগেটিভ। রক্তের গ্রুপ পজিটিভ না নেগেটিভ এই ব্যাপারটা নির্ভর করে Rh factor এর উপর।      

রক্তের লোহিত কণিকার গায়ে Rh factor/D এন্টিজেন থাকলে Rh পজেটিভ এবং না থাকলে Rh নেগেটিভ। অর্থাৎ ABO পদ্ধতির মাধ্যমে কারও রক্তের গ্রুপ পাওয়া গেল B এবং তার রক্তে Rh factor/D এন্টিজেন পাওয়া গেল না তাহলে তার রক্তের গ্রুপ হল B নেগেটিভ আর যদি D এন্টিজেন পাওয়া যায় তাহলে তা হবে B পজেটিভ। এভাবে ABO এবং Rh পদ্ধতি ব্যবহার করে A পজেটিভ/নেগেটিভ, B পজেটিভ/নেগেটিভ, O পজেটিভ/নেগেটিভ এবংAB পজেটিভ/নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়।

চলো নিচের টেবিলটা লক্ষ্য করি। যেখান থেকে বুঝা যাবে কে কার কাছ থেকে রক্ত নিতে পারবে আর কে কোন গ্রুপকে রক্ত দিতে পারবে।

 রক্তের গ্রুপ

 যে গ্রুপকে রক্ত দিতে পারবে

 যে গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারবে

 A

  A ও AB

  A ও O

 B

 B ও AB

 B ও O

 AB

 AB

 A, B , AB ও O

 O

 A, B , AB ও O

 O

A গ্রুপের রক্তে থাকা এ্যান্টিবডি B গ্রুপের রক্তে মিশে গেলে, লোহিত রক্তকণিকা জমাট বেধে যায়। একইভাবে B গ্রুপের রক্তের এ্যান্টিবডি A গ্রুপের রক্তের লোহিত রক্তকণিকাকে জমিয়ে ফেলে। অতএব, A রক্তের গ্রুপের গ্রহীতা কোনওভাবেই B রক্তের গ্রুপের দাতার রক্ত নিতে পারবে না। একইভাবে B রক্তের গ্রুপের গ্রহীতাও A রক্তের গ্রুপের দাতার রক্ত নিতে পারবে না।

আবার, AB গ্রুপের রক্তে কোন এ্যান্টিবডি পাওয়া যায় না। অতএব, এরা অন্য গ্রুপের রক্তের লোহিত কণিকাকে জমিয়ে দিতে পারে না। তাই AB রক্তের গ্রুপের গ্রহীতা চারটি রক্তের গ্রুপের প্রত্যেকেরই( A, B, AB  O) রক্ত গ্রহণ করতে পারবে। এজন্য এ গ্রুপের গ্রহীতাকে সার্বজনীন গ্রহীতা বলে। তবে, দাতা হিসেবে এরা নিজ গ্রুপ ব্যতীত অন্য কোন গ্রুপকে রক্ত দিতে পারবে না।

অপরদিকে, O রক্তের গ্রুপে কোন এ্যান্টিজেন থাকে না। তাই এরা একমাত্র নিজ গ্রুপ ছাড়া অন্য সকল গ্রুপের রক্তের লোহিত রক্তকণিকাকে জমিয়ে ফেলে। তাই রক্ত গ্রহনকালে O রক্তের গ্রুপের গ্রহীতা কেবল নিজ গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে। তবে, দাতা হিসেবে এরা প্রত্যেক গ্রুপকে (A, B, AB  O) রক্ত দিতে পারে। তাই, এই গ্রুপের দাতাকে বলা হয় সার্বজনীন দাতা