পৃথিবীর ভাই কেপলার-৪৫২বি

সম্প্রতি আবিষ্কার হওয়া কেপলার-৪৫২বি গ্রহটিকে নাসার বিজ্ঞানীরা ‘পৃথিবীর পুরনো ভাই’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। পৃথিবীর ছায়াপথে অবস্থিত এই গ্রহটির পৃথিবীর সাথে প্রচুর সাদৃশ্য আছে বলে জানিয়েছেন তারা।

নতুন এই গ্রহের আবিষ্কার নিয়ে সবার মধ্যেই তীব্র কৌতুহল বিরাজ করছে। অনেকের ধারণা হয়তো মানুষের জন্য পাওয়া গিয়েছে নতুন একটি আবাসস্থল। তবে জার্মান এরোস্পেস সেন্টারের গবেষক হেইক রওয়ার এ ব্যাপারে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করছেন।

তার মতে, যদিও আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানের জন্য এটা নিঃসন্দেহে একটি বিরাট আবিষ্কার তবে এই আবিষ্কারকে ঠিক মাইলফলক বলা যাবে না। সম্প্রতি জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়েচেভেল’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন :

– সবাই বলছে কেপলার-৪৫২বি একটি ‘পৃথিবীসদৃশ গ্রহ’। এর অর্থটা ঠিক কী?

হেইক: এই গ্রহের সাথে পৃথিবীর বৈশিষ্ট্যগত কিছু মিল রয়েছে। এর আকার পৃথিবী থেকে খুব বড় নয়, মাত্র ১.৬ গুন। নিজ তারাকে একবার প্রদক্ষিণ করতে অর্থাৎ এ গ্রহে এক বছর হয় ৩৮৫ দিনে। আমাদের সূর্যের সাথেও এই গ্রহের তারার বেশ মিল রয়েছে। তারা থেকে কেপলার-৪৫২বি-র দূরত্ব আর পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বও প্রায় কাছাকাছি। মার্কিন গবেষক যারা গ্রহটি খুঁজে পেয়েছেন তারা আসলে অনেক তথ্যই প্রকাশ করেছেন অনুমান ভিত্তিতে। এই গ্রহে ঠিক কী পরিমাণ পাথর, মাটি বা গ্যাস রয়েছে তারও সঠিক কোন তথ্য নেই।

– ভবিষ্যতে কি এরকম গ্রহ আরও পাওয়া যাবে?

হেইক: কেপলার স্যাটেলাইট প্রমাণ করেছে যে অনেক দূরের গ্রহও আবিষ্কার করা সম্ভব। আমরাও তাই এই ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছি। কেপলারের একটা ফলো-আপ মিশন আমরা শুরু করবো ১০ বছর পরে যেটার নাম European PLATO (Planetary Transits and Oscillations of stars)।

– নতুন এই গ্রহে মানুষের বসবাসের পক্ষে কতটা উপযোগী বলে আপনি মনে করেন?

হেইক: কেউ কেউ মনে করেন এটা একদমই সম্ভব নয়, কেননা অনেকগুলো বিষয় এখানে একত্রিত হতে হবে। তবে কারও কারও মতে এটা একেবারেই অসম্ভব নয়। অন্তত এটা বলা যায় যে আমরাই প্রথম প্রজন্ম যারা এমন একটা গ্রহ খুঁজে পেয়েছি যেখানে প্রাণের বিকাশ সম্ভব। হয়তো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দ্বারা আমরা এটা সত্যি করেও ফেলতে পারি।

– কেপলার-৪৫২বি’তে পৌঁছানো কি আসলেই সম্ভব?

হেইক: এই গ্রহ আমাদের থেকে ১ হাজার ৪০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। যেহেতু আমরা এখনো আলোর গতিতে ভ্রমণ করতে পারি না, সেহেতু আমাদের বর্তমান যে প্রযুক্তি আছে তার সাহায্যে ঐ গ্রহে পৌঁছাতে আমাদের প্রায় ৩ কোটি বছর লাগতে পারে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন