রাতের আকাশে নামতে থাকা কোমল সন্ধ্যাতারার মতোই উন্মোচিত হলো এক নতুন সাংস্কৃতিক আন্দোলন- ‘তারা’। গুলশানের ক্যাফে ১৩৮ ইস্টে আয়োজিত প্রথম আয়োজন ‘তারা আনপ্লাগড’ যেন হয়ে উঠেছিল শিল্প, সঙ্গীত ও মানবিকতার সুরেলা মিলনে গড়া এক মনোমুগ্ধকর রাতে। তরুণদের শিল্প–মনা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে জন্ম নেওয়া এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ ছিল অনন্য, আলো–অন্ধকারে গড়া এক গভীর অনুভবের মতো।
সন্ধ্যা গাঢ় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চ যখন আলোয় ভাসে, তখনই শুরু হয় সঙ্গীতের নন্দিত জাদু। মঞ্চে আবির্ভূত হন কোক স্টুডিও বাংলা-খ্যাত সংগীতশিল্পী সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা। ‘বুলবুলি’-র পরিচিত সুরে নানা গানে যখন তার কণ্ঠ ভেসে ওঠে, তখন উপস্থিত দর্শকদের মুখে ফুটে ওঠে বিস্ময় ও প্রশান্তির সম্মিলিত অভিব্যক্তি। তার কণ্ঠ যেন একদিকে নস্টালজিয়ার কোমলতা, অন্যদিকে আধুনিকতার নির্মল দীপ্তি—দুটোকে মিলিয়ে নির্মাণ করে এক মায়াবী অভিজ্ঞতা। বলা যায়, নন্দিতার সুরেই ‘তারা’-র উদ্বোধন সত্যিকারের প্রাণ পায়।
এক অনন্য অ্যাকুস্টিক পরিবেশনায় নন্দিতার সঙ্গী হন মোজি অ্যান্ড কো-র দক্ষ শিল্পী শুভেন্দু দাস শুভ। কণ্ঠ ও গিটারের সুরের নিখুঁত সমন্বয়ে তারা দু’জন মিলে এমন রসায়ন তৈরি করেন, যা মুহূর্তেই পরিবেশকে আবেশে ভরিয়ে তোলে। অনুষ্ঠানের আরেক উজ্জ্বল বিন্দু ছিলেন তরুণ সংগীতশিল্পী অনিমেষ রায়; তার প্রাণবন্ত সুরের ছোয়া ‘তারা আনপ্লাগড’-এ যোগ করে তরুণ আবেগের নতুন মাত্রা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা জানান, এ ধরনের আয়োজন কেবল সঙ্গীতচর্চার ক্ষেত্রেই নয়—সমাজ, তরুণ প্রজন্ম ও সৃজনশীলতার পরিমণ্ডলে নতুন আলো ছড়াবে। এর স্বচ্ছ নান্দনিকতা এবং নির্ভেজাল সৃজনশীলতা জন্ম দেবে নতুন ধরনের সাংস্কৃতিক কথোপকথনের। উদ্বোধনী সন্ধ্যার সাফল্য প্রমাণ করেছে—সমাজে এমন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আজ আরও বেশি।
তারা’র ফাউন্ডার অ্যান্ড ড্রিমার জান্নাতুল ফেরদৌস মুন বলেন, ‘তারা’ শুধু একটি আয়োজন নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক জাগরণের সূচনা। তরুণদের কাছে বাংলা সঙ্গীত, সাহিত্য, ইতিহাস–ঐতিহ্য এবং মানবিক মূল্যবোধকে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে এই উদ্যোগ। সম্ভাবনাময় তরুণ শিল্পীদের সামনে তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে এটি। ‘তারা আনপ্লাগড’ সেই যাত্রার প্রথম আলো, প্রথম সুর, প্রথম বিশ্বাস।
প্রতি মাসে ‘তারা’ আয়োজন করবে বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসব, সৃজনশীল সমাবেশ, করপোরেট প্রদর্শনী এবং বিশেষ থিমভিত্তিক অনুষ্ঠান। এই ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই সাংস্কৃতিক আন্দোলনটি এক নতুন সময়ের দিকে পদক্ষেপ রাখবে।
‘তারা আনপ্লাগড’ তাই শুধু একটি আয়োজন নয়—এটি যেন নতুন দিনের প্রভাতের প্রথম আলো, যা জানিয়ে দিল: বাংলা সংস্কৃতি আবারও আলো ছড়াতে প্রস্তুত—আর সেই আলোর নাম ‘তারা’।
