এতো লবণ কে দিলো?

৬ বছরের ছোট্ট কিশোর এবার ঈদের ছুটিতে বাবা মায়ের সঙ্গে বেড়াতে এসেছে কক্সবাজারে। কিশোর এর আগে কোনিদন সমুদ্র দেখেনি। এতো বিশাল জলরাশি দেখে বিস্ময়ে হতবাক সে। কিন্তু বিপত্তি ঘটল তখনই যখন সে বাবার সঙ্গে সমুদ্রের কাছাকাছি যেতেই ঢেউেয়র ঝাপটায় তার মুখে খানিকটা পানি ঢুকে গেলো। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি তার একদম পছন্দ হল না।

সে দূরে গিয়ে মন খারাপ করে বিশাল সমুদ্রের দিকে বেশ কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বাবাকে প্রশ্ন করল- “ বাবা সমুদ্রের পানিতে এতো লবণ কেনো?” তখন তার বাবা তাকে বললেন- প্রতিটি নদীর শেষ ঠিকানা হল সমুদ্র।

ClassTune

অর্থাৎ প্রতিটি নদীর পানি গিয়ে সমুদ্রে পড়ে। নদীর উৎপত্তি হয় পাহাড়ে।সেখান থেকে নদী বহু পথে প্রবাহিত হবার সময় পাহাড় আর মাটিতে থাকা লবণ ধুয়ে নিয়ে যায়। এভাবেই সাগরে লবণ জমা হয়। তখন কিশোর জানতে চাইলো তাহলে নদীর পানি কেন লবণাক্ত না। তখন কিশোরের বাবা বললেন, সমুদ্রের পানিতে নদীর পানির তুলনায় সোডিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এর পরিমান অনেক বেশি তাই নদীর পানি লবণাক্ত না।

একটু পর কিশোর আবার প্রশ্ন করল যে, আমারা যে লবণ খাই তা কি এই লবণ? বাবা উত্তরে বললেন- আমরা খাবারের সাথে যে লবণ খাই তাঁকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে সোডিয়াম ক্লোরাইড। এই লবণকে সাংকেতিক ভাষায় লেখা হয় NaCl. সমুদ্রের এই লবণাক্ত পানিকে রোদে শুকিয়ে লবণ বানানো হয়। শুকিয়ে যাওয়া সেই লবণকে পরিশোধন করে আমরা খাই। আমরা যখন মহেশখালি যাব তখন তোমাকে দেখাব কী করে লবণ বানানো হয়।

এরপর কিশোর আবার জানতে চাইলো- বাবা আমরা যখন লবণ খেয়ে ফেলি তখন কি সমুদ্রের লবণ কমে যায়? এবার কিশোরের মা জবাব দিলেন- না, কিশোর সমুদ্রের লবণ শেষ হয় না। মাঝে মাঝে যখন খুব বেশি বৃষ্টি হয় তখন কিছু সময়ের জন্য সমুদ্রের পানির লনাক্ততা কমে।আবার যখন প্রচণ্ড গরম পড়ে তখন সমুদ্রের পানি অতিরিক্ত তাপে বেশি পরিমাণে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, ফলে তখন কিছু সময় পানি বেশি লবণাক্ত লাগে।