এশিয়ার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র

711

তোমরা হয়ত জান যে বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃষি খামার কোনটি। কিন্তু মনে কি কখনো প্রশ্ন জাগে সর্ববৃহৎ মৎস্য হ্যাচারি কোনটি ?? কোথায় অবস্থিত তা কি জান ?? জান না তো !!!
অনেকেরই এটা না জানারই কথা। কারন, এই স্থানটা বা হ্যাচারিটির বিষয়ে বই-পুস্তকে সাধারনত কিছু পাওয়া যায়না। আচ্ছা ওসব থাক । আগে জানতে না তো কি হয়েছে, এখন জানতে পারবে।
আমাদের দেশের সর্ববৃহৎ মৎস্য হ্যাচারি হল ঝিনাইদহ জেলার অন্তর্গত কোটচাঁদপুর থানায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় মৎস্য হ্যাচারি কমপ্লেক্স । এটা শুধু দেশের নয় , এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম মৎস্য হ্যাচারি বা মাছের পোনা উৎপাদন কেন্দ্র।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এই মৎস্য হ্যাচারি প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ১৯৭৯ সালে। টানা ৬ বছর নির্মাণ কাজ চলে। ১৯৮৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি ঊদ্ভোদন করা হয় এবং পুরদমে মাছ চাষ শুরু হয়। প্রথমদিকে হাতেগোনা কয়েকটি প্রজাতির মাছের পোণা চাষ শুরু হলেও এখন অর্ধ-শতাধিক মাছের পোণা চাষ শুরু হয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর বলছে বর্তমানে এর আয়তন ১০৩ একর। এর মধ্যে ৬১ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে ছোট- বড় ২৯ টি পুকুর। বাকি ৪২ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে এর সুবিশাল ক্যাম্পাস।ক্যাম্পাসে রয়েছে ৩টি আবাসিক ভবন, ১টি হ্যাচারি কমপ্লেক্স ভবন, ১টি স্টোররুম, ১টি প্রশাসনিক ভবন ও ১টি অতিথি ভবন।
বিগত ৩০ বছর ধরে এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখছে। এখান থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমান রাজস্ব সরকারের খাতায় লিপিবদ্ধ হচ্ছে।
দেশের তথা মহাদেশের সর্ববৃহৎ এই মৎস্য হ্যাচারিতে শীতকালে পর্যটক ভিড় লেগে থাকে। নানা ধরনের অতিথি পাখিরও দেখা মেলে এইসময়। তাছাড়া গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে অবিরাম বাতাস বয়।পার্শ্ববর্তী বাওর এই স্থানের নৈসর্গিক দৃশ্যকে আরও মনোরম করে তুলেছে।