আমাদের বীরগাথা

ডিসেম্বর। আমাদের বিজয়ের মাস। বাঙালির গৌরবের মাস। পরাধীনতার শেকল ভেঙে মুক্ত হওয়ার মাস। এই বিজয় ছিনিয়ে আনতে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হয়েছে মুক্তিকামী বাংলার জনগনকে। শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে হয়েছে নির্ভীক চিত্তে। স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে অানতে বুকের তাজা রক্তে রাঙাতে হয়েছে মাতৃভূমিকে। বিজয়ের মাসে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানীদের গৌরবগাথার টুকরো কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হলাে এ প্রজন্মের পাঠকদের জন্য-

বীরউত্তম মেজর জেনারেল (অব.) কাজী মুহাম্মদ সফিউল্লাহ (পিএসসি)সেনাবাহিনীতে ‘কে এম সফিউল্লাহ’ নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালের  মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথমে ৩ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ চলাকালে অক্টোবর মাসে ৩ নং  সেক্টরের অধীনে ২য় ও ১১তম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে অধিনায়ক মেজর সফিউল্লাহর নামানুসারে সৃষ্টি হয় ‘এস’ ফোর্সের। তিনি ছিলেন এই ফোর্সের প্রধান।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহর (বীরউত্তম) জন্ম তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ থানার অন্তর্গত রূপগঞ্জ গ্রামের কাজী বাড়িতে। বাবা কাজী মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ আর মা রজ্জব বানু। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেয়ার পরপরই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৫২ সালে। ১৯৫৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে কমিশন লাভ করেন। কমিশন পাওয়ার পর প্রথম পোস্টিং হয়েছিল পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ‘থার্ড-সিক্সটিন পাঞ্জাব’ ব্যাটালিয়নে। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে কাজ করার পর ১৯৭০-এর অক্টোবরে মেজর সফিউল্লার পোস্টিং হয় সেকেন্ড ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে তার অসীম সাহসিকতার জন্য তাকে বাংলাদেশ সরকার বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে।

…………………………………………………………….

আখাউড়া যুদ্ধের পরিকল্পনাটা ছিল অনেকটা এরকম ‘আমরা মুকুন্দপুর থেকে শুরু করে দখল করতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। ২৯ নভেম্বর মুকুন্দপুর থেকে যুদ্ধ শুরু করি। হরাশপুর নামের একটি জায়গায় আমি এক কোম্পানি সৈন্য মোতায়েন করি। যাতে আমাদের পেছন থেকে কেউ আক্রমণ করতে না পারে।

জায়গাটা ছিল নদী ঘেরা তাই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। মুকুন্দপুর, সিঙ্গারবিল দখল করে, আজমপুর পর্যন্ত পৌঁছাই ২ ডিসেম্বর নাগাদ। এখানে আসার পর পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর হেভি আর্টিলারি শেলিং শুরু করে। এই যুদ্ধে আমাদের লেফটেন্যান্ট বদিউজ্জামান ও জেসিও সুবেদার আশরাফ শহীদ হন।

৩ ডিসেম্বর আরো সামনে অগ্রসর হয়ে আমরা আশুগঞ্জে ঢুকে পড়ি। এখানে আমার পাশের সেক্টর ট্রুপসকে ফায়ারিং সাপোর্ট দেয়া হয় আগরতলা বিমানবন্দরের একটি অংশ থেকে। এদিনই আমরা আখাউড়ায় প্রবেশ করি। আবার ৩ তারিখেই পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ ঘোষণার পর আমাদের সঙ্গে যৌথ কমান্ড ফোর্স পরিচিত হতে আসে। তখন আমি ৫৭ মাউন্ট ডিভিশনের অধীনে চলে যাই।

আমরা আখাউড়া দখল করি। পরবর্তীতে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ঢাকার দিকে অগ্রসর হবো। আমরা ৫ ডিসেম্বর ঢাকার দিকে এগুনো শুরু করলাম। আখাউড়া দখল করে পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের পরে ইন্ডিয়ান দুটো ব্রিগেডের মধ্যে একটি ব্রিগেড উজানী ব্রিজের থেকে সড়কপথ দিয়ে এবং অন্যটি রেললাইন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে অগ্রসর হতে লাগলো।

আর আমাকে বলা হলো সিলেট মহাসড়ক ধরে সরাইল হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে। আমরা ভারতের ভেতর দিয়ে তেলিয়াপাড়া হয়ে ইসলামপুরে আসি। পেছন থেকে অর্থাৎ সিলেট থেকে পাকিস্তানিরা যাতে আমাদের ওপর আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য মাধবপুরে প্রটেকশনের জন্য এক কোম্পানি সৈন্যকে রেখে সিলেট মহাসড়ক ধরে ব্যাটালিয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকি।

এখানে বলে রাখি, ব্রিগেড কমান্ডার হওয়ার পরও আমি অগ্রসর হচ্ছিলাম ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে। কারণ আমার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার জুনিয়ার অফিসার ছিলেন। তাকে সাহায্য করার জন্য আমি ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারকে বললাম, ‘তোমরা আমাকে ফলো করো, আমি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছি’। আমাদের সামনের একটি কোম্পানি সরাইলের দিকে যাচ্ছে আর আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে।

এমন সময় দেখলাম আমাদের পেছন দিয়ে একটা ট্রাক সিলেট থেকে আসছে। ট্রাকটির দিকে তাকিয়ে আমার ব্যাটালিয়ান কমান্ডার বললো, ‘স্যার আমাদের তেলিয়াপাড়া একসেস পয়েন্ট পরিষ্কার। কারণ আমার অ্যামুনেশন ট্রাকটা আসছে’। আমরা ধরেই নিলাম এটা আমাদের অ্যামুনেশন ট্রাক। ট্রাকটির দিকে হাত দেখিয়ে আস্তে আস্তে অগ্রসর হতে থাকি।

কিন্তু সেটা যখন আমাদের কাছে আসলো তখন দেখি ট্রাক ভর্তি পাকিস্তানি সৈন্য। দেখে বুঝলাম, আমাদের যেই কোম্পানিটি মাধবপুরে থাকার কথা তারা হয়তো সেখানে ছিল না। অথবা থাকলেও কোনো গড়বড় হয়েছে তা নাহলে তাদের অ্যাভয়েড করে এরা এখানে এলো কী করে! যাই হোক তাদের দেখা মাত্রই আমরা বললাম, ‘হ্যান্ডস আপ’। তারাও হাত ওপরে তুললো। কিন্তু হাত ওপরে তোলার পর দেখা গেলো ওরা আমাদের থেকে সংখ্যায় বেশি।

ট্রাকের সামনে একজন জেসিও বসে ছিল। সে ট্রাক থেকে নেমে আমাকে জাপটে ধরলো। শুরু হলো আমাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি। ফলে আমাদের দুজনের কেউই কোমরের পিস্তল বের করতে পারছি না। আমার স্টেনগানটা ছিল আমার রানারের কাছে। ২৮ রাউন্ড গুলি ভর্তি অটোমেটিক স্টেনগান। একবার ট্রিগার চেপে ধরলে পুরো ম্যাগাজিন খালি হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের ধস্তাধস্তির কারণে আমার ব্যাটম্যানও গুলি করতে পারছে না।

কারণ একবার তার ব্যারেলের সামনে আমি পড়ি একবার ওই হাবিলদার পড়ে। এক পর্যায়ে আমি আমার ডান হাঁটু দিয়ে তার গ্রোয়ানে আঘাত করি। ফলে তার হাত শিখিল হয়ে গেলে আমি তাকে দুটো ঘুষি মারি। সে পড়ে যায়। আমার ব্যাটম্যানের রাইফেলটা আমার সামনে পড়া ছিল। সেটা তুলে তাকে গুলি করতে গেলে আমার ব্যাটম্যানকে সে শিল্ড করে তার হাতে ধরা স্টেনগানটা আমার দিকে তাক করে ট্রিগার টিপে দেয়। আমি শুধু শুনলাম ‘ঠা ঠা’ শব্দ।

সৌভাগ্যবশত স্টেনগান থেকে মাত্র দুটি গুলি বের হয়, ২৮টা নয়। এ অবস্থায় আমি ওই রাইফেলের কুঁদো দিয়ে তার মাথায় জোরে আঘাত করতে থাকি। কয়েকটি আঘাতের পরেই বুঝতে পারি তাকে মেরে ফেলতে পেরেছি। এই সময় দেখি ট্রাকের পেছনে পাকিস্তানি সৈন্য ভর্তি আরেকটি বাস এসে থেমেছে। সেখান থেকে পাকিস্তানি সৈন্যরা নামছে। এবার রাইফেলটি দিয়ে গুলি করতে গিয়ে দেখি রাইফেলের বাঁট ভেঙে গেছে।

ওটা ফেলে দিয়ে পিস্তল বের করতে গিয়ে দেখি পিস্তলও ভাঙা। হয়তো স্টেনগানের গুলি পিস্তলের গায়ে লেগেছিলো। এটা দেখে পিস্তলটা কোমরে রেখে পাশের নালায় ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমার তখন নালার কাদা-কচুরিপানায় মাখামাখি অবস্থা। সেখান থেকে দেখলাম পাকিস্তানিরা বাস থেকে নেমে পজিশন নিচ্ছে।

চিন্তা করে দেখলাম ওরা আমাকে দেখে ফেললেই গুলি করবে। তখন তো কাদায় মরে থাকবো এর চেয়ে ভালো রাস্তায় উঠে পড়ি। আমি রাস্তায় উঠে পড়লাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার গলায় একটা ছোট কুরআন শরিফ ঝোলানো ছিল। ওটা ছুঁয়ে বললাম, ‘আল্লাহ জানি, তুমি আমাকে মারবা তবে মারার আগে আমার হাতে একটা অস্ত্র অন্তত দিয়ো।’ ওই অবস্থায় পাকিস্তানিরা কিন্তু আমাকে চিনতে পারেনি।

কারণ আমার অলিভ রঙের পোশাক নালার কাদায় মিশে হয়ে গিয়েছিল ছাই রঙের। পাকিস্তানিরাও পরেছিল ছাই রঙের পোশাক। ওরা আমাকে ওদেরই লোক মনে করে ভেবে নিয়েছিল বোধহয় আমি ওদের পজিশন চেক করছি। কারণ আমি পজিশন চেক করার ঢঙে ডানে-বামে তাকাতে তাকাতে এগুচ্ছিলাম। এভাবে দুশ গজ সামনে গিয়ে ইসলামপুর গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়লাম।

ততোক্ষণে আমার সামনে ও পেছনে থাকা কোম্পানিও চলে এসেছে। তাদের সঙ্গে গোলাগুলিতে ২৭ জন পাকিস্তানি সেনা মারা পড়ে আর ১৩ জন ধরা পড়ে। আমার ট্রুপসের দুজন মারা যান এবং ১১ জন আহত হন। ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাসিম নিজেও আহত হয়। যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। তার ডেটাকের প্রায় এক পোয়া মাংস উড়ে গিয়েছিল।

আমাদের আহত ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য পাকিস্তানিদের ট্রাকটাতে তুলে পেছন দিকে মাধবপুরের পরে চান্দুরা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাদের সঙ্গে থাকা ডাক্তারও আহত হয়েছিলেন। ট্রাকটা ঘোরাতেই আমার পেছনের যে ট্রুপস ছিল তারা মনে করেছে পাকিস্তানিরা পালাচ্ছে। তারা আবার গুলি শুরু করলো। ড্রাইভিং সিটে আমি ছিলাম। তাদের গুলিতে উইন্ডশিল্ড ভেঙে গেলো। এই পরিস্থিতিতে আমার টুপিটা হাত দিয়ে নাড়াতে থাকলাম। এতে গুলি বন্ধ হলে আমি আহতদের নিয়ে চান্দুরা রওনা হলাম। সেখানে আহতদের নামিয়ে আবার সিলেট মহাসড়কে ফিরে এলাম।

রাতটা রাস্তার পাশের ঢালে কাটিয়ে সকালে যাত্রা করার প্রাক্কালে তিন পাকিস্তানি সৈন্যকে ধরে আমার সামনে হাজির করা হলো। তাদের একজনের মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা। আমাকে দেখে সে উর্দুতে বললো, ‘কাল মে এক অফিসারকো পাকড়া থা। কেয়া তুম ওহি হো’? আমি বললাম, ‘হা, মে ওহি হু’। সে আবার উর্দুতে বললো, ‘কাল আমি তোমাকে গুলি করেছিলাম, আজ তুমি আমার সঙ্গে কী করবে?’

আমি বললাম, ‘তোমার মাথায় তো জখম। আগে তুমি হাসপাতালে যাও তারপর দেখা যাবে তোমাকে কী করি?’ এই কথা বলা মাত্রই সে আমার পায়ের ওপর পড়ে গেলো। আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘কেয়া তুম মুসলমান হো’? আমি বললাম, ‘হ্যাঁ। আমি মুসলমান’। সে বললো, ‘কিন্তু আমাকে তো বলা হয়েছিল এখানে কোনো মুসলমান নেই। সব হিন্দু।’ আমি বললাম, ‘তুমি কী জানো বা না জানো, আমি জানি না। তবে আমি মুসলমান।’

তখন সে আমাকে বললো, ‘আমাকে তোমার সঙ্গে নিয়ে চলো। খোদার কসম আমি তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করবো।’ তখন আমি যতো তাকে পেছনে পাঠাই সে আমার সঙ্গে চলে আসতে চায়। এরপর আমি তাকে জোর করে পেছনে পাঠিয়ে দেই। এই কথোপকথন থেকেই বোঝা যাচ্ছে, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের অনেকের ধারণা ছিল তাদেরকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পূর্ব পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে।

আমরা আবার অগ্রসর হতে থাকলাম। সরাইল পৌঁছালে আমাকে বলা হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া না গিয়ে আশুগঞ্জ হয়ে ঢাকা চলে যেতে। কারণ আমাদের তখন যতো দ্রুত সম্ভব ঢাকা পৌঁছানো দরকার। ৮ ডিসেম্বর ঢাকার পথ ধরলাম। পথে ৯ তারিখে ছোট একটা যুদ্ধ হলো। ১০ তারিখ আশুগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম। ইন্ডিয়ান আর্মি আগেই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় চলে গিয়েছে। আমরা আশুগঞ্জ থেকে গেলাম লালপুর।

সেখানে নদী পার হয়ে রায়পুরা-নরসিংদীর দিকে। ওখানে একটা ট্রেঞ্চের ভেতর কয়েকটা মৃতদেহ আমার চোখে পড়লো। এর মধ্যে একটা নগ্ন মেয়ের মৃতদেহ। এই অবস্থায় আমি কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। এমন সময় আমাদের সঙ্গের একজন ইন্ডিয়ান শিখ সেনা তার মাথার পাগড়িটা খুলে আমার হাতে দিলেন। আমি ওই পাগড়িটা দিয়ে মেয়েটাকে ঢেকে দিলাম। যাই হোক আমরা ঢাকার ডেমরায় পৌঁছাই ১৩ ডিসেম্বর রাতে।

ইন্ডিয়ান আর্মি ছিল নদীর পূর্ব পাড়ে আর আমি ট্রুপস নিয়ে পশ্চিম পাড়ে। এখানে পাকিস্তান আর্মির ১২ ফ্রন্ট এয়ারফোর্স রেজিমেন্ট ছিল। এদের সঙ্গে ১৪ তারিখ সকালে আমাদের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধ চলাকালেই আমার কাছে খবর এলো যে, নিয়াজী আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছে। তোমরা যুদ্ধ বিরতিতে যাও। ইতোমধ্যে দেখলাম ঢাকা ছেড়ে অনেক মানুষ চলে আসছে। ভেবে দেখলাম, এখন যদি ঢাকার দিকে রওনা হই তাহলে আমাদের এই সাধারণ জনতার ক্ষতি হবে। কারণ আমাদের গুলিবর্ষণ করতে করতে এগুতে হবে। আর সেগুলো গিয়ে আঘাত করবে আমাদের জনতাকেই। এজন্য ১৪ ও ১৫ তারিখ আমরা ডেমরাতে যুদ্ধবিরতি করে বসে রইলাম।

(সূত্র : '৭১ বীরত্ব বীরগাথা বিজয়'- বইয়ের প্রথম খণ্ড থেকে সংগৃহীত)