ইংল্যান্ডে ব্রোঞ্জ যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান

Zulu people

ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজশায়ারের ফেনল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা খুঁজে পেয়েছেন নতুন একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তবে এ স্থানটি অন্য সব পুরাতাত্ত্বিক স্থানের মতো নয়। সাধারণত একটি পুরাতাত্ত্বিক স্থানে অল্প কিছু প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায়। কিন্তু গত ১০ মাস ধরে এখানে চালানো খননকার্যের ফলে উদ্ধার করা হয়েছে অসংখ্য মাটির তৈজসপত্র, ধাতুর কাজ করা দ্রব্য, প্রাচীন কাপড় আর কাঠ।

ক্যামব্রিজ আর্কিওলজিকাল ইউনিটের ব্যবস্থাপক মার্ক নাইট জানান, এটি হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন এক পৃথিবীর অংশবিশেষ। প্রায় ২ হাজার বছর আগেকার ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন এটি। ব্রিটেনে এই ধরণের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান এবারই প্রথম পাওয়া গেল। ইতোমধ্যেই এই সাইট ব্রোঞ্জ যুগ সম্পর্কে গবেষকদের অনেক ধারণা পাল্টে দিতে শুরু করেছে।

ClassTune

১৯৯৯ সালে এই স্থান নিয়ে আগ্রহের শুরু হয়। আগ্রহ আর বাড়তে থাকে ২০০৪ ও ২০০৬ সালে এখানে ব্রোঞ্জ যুগের বর্শার ফলা ও তরবারি খুঁজে পাওয়ার পর। গত সেপ্টেম্বর থেকে এখানে পুরো উদ্যমে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে।

মাস্ট ফার্ম নামের এই প্রকল্পটিকে ব্রিটিশ পম্পেই বলে গণ্য করা হচ্ছে। যদিও পম্পেই অনেক বড় নগরী ছিল কিন্তু এখানে একটি ছোট নদীর পাশে মাত্র ৩০ জনের মতো মানুষ ৯ বা ১০টি কাঠের তৈরি গোলাকার ঘরে বাস করতো। ৭৯ অব্দে পম্পেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ভিসুভিয়াসের অগ্নুৎপাতের ফলে আর এই স্থানটিও কোন অগ্নিকান্ডের ফলে আকস্মিকভাবে ও খুব দ্রুত ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।

ব্রোঞ্জ যুগের মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য উন্মোচিত হয়েছে এই পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনস্থল থেকে। তারা গাছের কাঠ কেটে নৌকা তৈরি করতো। তাদের খাবারের তালিকায় ছিল বন্য শুকর, হরিণ, ভেড়া, ছাগল আর মাছ। এখানে ৮০ টুকরোর মতো কাপড় পাওয়া গিয়েছে যেগুলোর মধ্যে লিনেনও রয়েছে। পাওয়া গিয়েছে প্রায় ৪০০০ হাজার টুকরো প্রাচীন কাঠ।

তারা কাঠের কাজে খুব দক্ষ ছিল। তারা কাঠের থালায় খাবার খেত আর কাঠের অনেক তৈজসপত্র ব্যবহার করতো। একটা আস্ত কাঠের চাকা প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে এখানে। এছাড়াও ১৫টা কুঠারের ফলা, ৫টা কাস্তে আর ৫টা বর্শার ফলা উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে প্রত্নতাত্ত্বিক এই স্থানটি ঘিরে এখনো অনেক রহস্য রয়ে গিয়েছে। গবেষকেরা মনে করছেন এই জায়গাটিতে নিয়ে একটি গল্প রয়েছে আর সেটিই তারা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।