এক ইঞ্চি পদার্থের বলয়ে প্রযুক্তির দুনিয়া

memory-cards-h

আমরা অনেকেই মোবাইল, MP3 Player কিংবা আইপডে গান সংরক্ষন করে রাখি। যখন শুনতে ইচ্ছে হয় পছন্দের গানটি ছেড়ে দিয়ে শুনতে থাকি। কিন্তু এই ছোট্ট প্লেয়ারটির ভেতরে একটি, দুইটি করে হাজারটি গান কিভাবে রাখা সম্ভব ? এই প্রশ্ন শুনলে হয়তো এখন হাসি লাগতে পারে। কারণ, উত্তরটি সবারই জানা। মোবাইল বা বিভিন্ন মিউজিক প্লেয়ারের ভেতর “মেমরি কার্ড বা ফ্ল্যাশ কার্ড” এবং কম্পিউটারের ভেতর “হার্ড ড্রাইভ” থাকে, যা গান বা যেকোনো ধরনের তথ্য সংরক্ষন করে রাখতে সক্ষম।

আজ থেকে ১০ বছর আগেও মেমরি কার্ডের ধরন ছিলো ১২৮ মেগাবাইট, ২৫৬ মেগাবাইট এরকম। কিন্তু বিজ্ঞানের গতি যেন গত এক দশকে কয়েকগুন বেশি গতিতে এগিয়ে গেছে। বর্তমানে মেগাবাইটের গণ্ডি ছাড়িয়ে হার্ড ড্রাইভগুলো গিগাবাইটে পৌঁছেছে, এবং সম্প্রতি গিগাবাইট গিয়ে টেরাবাইটে পৌঁছেছে। ২০০৫ সালে যেখানে ১ গিগাবাইট মেমরি কার্ডের মালিক হলে রাজকীয় একটা ভাব আসতো, বর্তমানে অনেক মোবাইলে ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত Built-in মেমরি দেয়া থাকে।

মেমরি কার্ডের এই বিবর্তন এক ঝলকে দেখে নেয়া যাকঃ

১৯২৮ সালে জার্মান ইঞ্জিনিয়ার ফ্লিটজ ফিউমার একটি চৌম্বকটেপ নকশা করেন যার মাধ্যমে সাময়িকভাবে কোনো কিছু সংরক্ষন করা সম্ভব ছিলো। ১৯৩২ সালে অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী ট্যাউশেক একটি ম্যাগনেটিক ড্রাম আবিষ্কার করেন, যা ফিউমারের ঐ নকশার অনুকরনে তৈরি করা হয়, কিন্তু এটি আগেরটির চেয়ে বেশি কার্যকরী ছিলো। এরপর ১৯৫০ পর্যন্ত অনেক বিজ্ঞানী অনেক রকম চেষ্টা করতে থাকেন স্থায়ী মেমরি আবিষ্কারের জন্যে। 

১৯৫৬ সালে IBM প্রথম সুপার কম্পিউটার 305 RAMAC আবিষ্কার করে। এই কম্পিউটারের সাথে 5MB হার্ড ডিস্ক ড্রাইভও সংযুক্ত ছিল। এই 5MB হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ এর ওজন ছিল ১ টনের উপরে ! 

৬০ বা ৭০ এর দশকের কম্পিউটারের মেমরি বলতে বিভিন্ন মাপের ফ্লপি ডিস্ককে বোঝানো হত। বিভিন্ন আকৃতির উপর নির্ভর করে এর ধারণ ক্ষমতা পরিবর্তন হতো।

পরবর্তীতে বাজারে আসে Compact Disc বা সংক্ষেপে CD।  বিভিন্ন সাইজের এই সিডিগুলো দিয়ে মূলত রেকর্ডিং এর কাজ করা হত। এরপর বাজারে আসতে থাকে Digital Audio Tape বা DAT, Digital Data Storage বা DDS যেটিকে আমরা অডিও ক্যাসেট হিসেবে চিনি। এরপর মিনি ডিস্ক, কম্প্যাক্ট ফ্ল্যাশ, জিপার সহ অনেক ভাবেই তথ্য সংরক্ষনের কাজ চলতো।

৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে ৮ মেগাবাইটের একটি ছোট্ট মেমরিকার্ড বাজারে আসে, যা পাল্টে দেয় মেমরি কার্ডের ইতিহাস। বড় বড় ধাতব জিনিসের জায়গায় চলে আসে ছোট্ট প্লাস্টিকের একটি পদার্থ, যার ভেতরের প্রযুক্তি পাল্টে দেয় সবকিছু। এরপরে আস্তে আস্তে বাজারে আসতে থাকে ২৫৬ এবং ৫১২ মেগাবাইটের মেমরি কার্ড।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ পর্যন্ত ১২৮ গিগাবাইটের “স্মল মেমরি কার্ড” এবং কয়েক টেরাবাইট পর্যন্ত হার্ড ড্রাইভ আবিষ্কার হয়েছে।

মেমরিতে ডাটা EEEPROM প্রুযুক্তি ব্যবহার করে সংরক্ষিত হয়। এই পদ্ধতিতে সাধারণত উন্নত মাইক্রোপ্রসেরের ডাটা সংরক্ষিত হয়। মেমরি কার্ডগুলো ফ্লোটিং গেট ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরি করা হয়। 

স্মৃতি সংরক্ষন এখন শুধু মেমরি কার্ড কিংবা হার্ড ড্রাইভেই সীমাবদ্ধ নয়, অনলাইন “ক্লাউড ব্যাকআপ” এর মাধ্যমে ২৫ গিগাবাইট পর্যন্ত তথ্য অনলাইনে বিনামূল্যে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। Google Drive, Dropbox, ZbigZ, iCloud এগুলো হচ্ছে বিখ্যাত কয়েকটি ক্লাউড স্টোরেজের মাধ্যম।