এরপর কে মারা যাবে গেম অফ থ্রোন্সে?

2286
Game of Thrones
ছবি : সংগৃহীত

এরপর কে মারা যাচ্ছে? সম্ভবত এটিই আমেরিকার টিভি শো ‘গেম অফ থ্রোন্স’ এর দর্শকদের কাছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আর অ্যালগরিদম ব্যবহার করে এ প্রশ্নের উত্তর বের করার চেষ্টা করেছেন জার্মানির মিউনিখের কয়েকজন কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র।

মিউনিখ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি প্রোগ্রাম তৈরি করেছেন। এই প্রোগ্রাম ইন্টারনেটে গেম অফ থ্রোন্স সম্পর্কিত কি ধরণের তথ্য খোঁজা হয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণ করে এবং আরও অনেকগুলো বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এরপর কে মারা যাবে তার একটি অনুমান তৈরি করে।

২০১১ সালে শুরু হওয়া ফ্যান্টাসি টিভি সিরিয়াল গেম অফ থ্রোন্সের ইতোমধ্যেই ৫টি সিজন শেষ হয়েছে। ২৪ এপ্রিল শুরু হয়েছে সিজন ৬ আর সেটি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলছে দারুন উত্তেজনা।

৫০ দিন ধরে কাজ করে ৪০ জন শিক্ষার্থী এই প্রোগ্রামটি তৈরি করেছে। তারা ২৪টি চরিত্রের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। যেমন জীবিত একটি চরিত্রের কতজন আত্মীয় মারা গিয়েছে। তারা বলছেন, যদি একটি চরিত্রের মা ইতোমধ্যেই মারা গিয়ে থাকে তাহলে সে চরিত্রের মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

আরেকটি বিষয় তারা বলছেন যে এই শো এর পুরুষ চরিত্রগুলোর মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আবার বয়সও মারা যাবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। কারো বয়স যদি ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে থাকে তাহলে সে যেকোনো সময় খুন হয়ে যেতে পারে। এই বয়সটুকু পার হতে পারলে অনেকটাই নিরাপদ হওয়া  যেতে পারে। সিরিজে একটি চরিত্র কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় সেটিও মরার অন্যতম ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই অ্যালগরিদমের অনুমান সাম্প্রতিক সময়ের গেম অফ থ্রোন্সের চরিত্রগুলোর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৭৪ শতাংশ সঠিক হয়েছে। আর এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে এই সিজনে টমেন বারাথিওনের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৯৭ শতাংশ এবং দানেরিস টারগেরিয়ানের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ। তবে ভালো সংবাদ হচ্ছে এদিক থেকে বিবেচনা করলে জনপ্রিয় চরিত্র জন স্নো যে ইতোমধ্যেই মারা গিয়েছে তার মরার সম্ভাবনা মাত্র ১১ শতাংশ।

এই প্রোগ্রামারের নির্মাতারা বলছেন, তাদের অ্যালগরিদম যে সবসময় সঠিক হবে তা নয়। এটি সম্ভাবনার সূত্র ব্যবহার করে তৈরি করা কিছু অনুমান মাত্র। সিরিজের কাহিনী অনুযায়ী যেকোনো সময় যেকোনো চরিত্র মারা যেতে পারে।

গেম অফ থ্রোন্স আমেরিকাতে সবচেয়ে বেশি দেখা টিভি শো। একই সাথে এটি পৃথিবীর সবচাইতে বেশি পাইরেটেড টিভি সিরিয়াল।