চেঙ্গিস খানের দুর্গ

দুধর্ষ যোদ্ধা চেঙ্গিস খানের একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ সম্প্রতি খুঁজে পেয়েছে জাপান ও মঙ্গোলিয়ার একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ। দুর্গটি ১৩শ শতকের তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চেঙ্গিস খান মঙ্গোলিয়ার একজন সেনাপতি এবং শাসক ছিলেন। ১১৫০ থেকে ১১৬০ সালের মধ্যে কোন একসময় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মঙ্গোল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সাম্রাজ্য বলে জানা যায়। তাকে মঙ্গোল জাতির পিতাও বলা হয়ে থাকে।

মঙ্গোলিয়ার বিখ্যাত শাসক চেঙ্গিস খানের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো এ দুর্গে। পশ্চিম দিকে তার সাম্রাজ্য বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশলের সাক্ষী হয়ে আছে এই দুর্গ। ১৩শ এবং ১৪শ শতকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করা হতো এ দুর্গকে কেন্দ্র করে।

২০০১ সালে একদল গবেষক মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটারের ৮৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে কিছু জায়গা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শুরু করে। মধ্যযুগে চীনের একজন তাওইজম নেতার বর্ণনার সাথে সে এলাকার অনেকটা মিল খুঁজে পান গবেষকদলটি।

দুর্গটি থেকে ১৩শ শতকে নির্মিত বেশ কিছু চীনা সিরামিকের বাসনপত্রের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গের চারপাশে ২০০ মিটার করে বর্গাকার মাটির দেয়াল তোলা ছিল।

বেশ কিছুদিন আগে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা এখানে পাওয়া কিছু কাঠের টুকরো এবং প্রাণীর হাড় নিয়ে পরীক্ষা করেন। কার্বন ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে জানা যায়, কাঠের টুকরোগুলো ১২শ থেকে ১৩শ শতকের। তবে প্রাণীর হাড়গুলো ১৪শ শতকের।

প্রত্নতত্ত্ববিদেরা জানান, মধ্য এশিয়ায় চেঙ্গিস খান তার ঐতিহাসিক আক্রমণের সময় এ দুর্গকে তার সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। ১২১২ সালের দিকে এই দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। এই আবিষ্কার এবং গবেষণা থেকে আরও নতুন অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন।