ঝরা পাতার রং ধূসর কেন

2234
tree

ঢাকা শহরে তেমন গাছপালা দেখতে পাওয়া যায় না। যা কিছু আছে তা ঐ রমনা পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন কিংবা বলধা গার্ডেন জুড়ে। কিন্তু ঢাকার বাইরে গেলেই দেখা যায় দু’চোখ জুড়ানো সবুজে ভরপুর প্রকৃতি। প্রকৃতির সবুজ রঙটাই কেমন যেন রহস্যময়, সবুজ ছাড়া অন্য রং হলে যেন ভালই লাগে না ! সবুজে ঘেরা প্রকৃতি দেখলে মনটা কেমন শান্ত হয়ে ওঠে।

তোমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছো, আর গ্রাম মানেই ছায়াঘেরা সবুজ চারিদিক। যেহেতু স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পর লম্বা ছুটিটা শীতকালেই আসে, তাই আন্দাজ করে নেওয়া যায় তোমরা যারা গ্রামে বেড়াতে যাও, তারা শীতকালেই যাও। তাই যদি হয়ে থাকে, তবে তোমরা নিশ্চয়ই গ্রামে এমন কিছু গাছ দেখেছো যাদের পাতা শীতকালে ঝরে পড়ে, আর ঝরার আগে এদের রং হয়ে যায় ধূসর। কখনো মনে প্রশ্ন জেগেছে যে কেন এমনটা হয়? 

গাছের পাতার রং সবুজ দেখায় পাতায় অবস্থিত ক্লোরোফিলের কারণে। সবুজ পাতা গাছের খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। গাছ সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে ক্লোরোফিলের সাহায্যে তার প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করে নেয় এবং এগুলো পাতায় জমা থাকে। গাছের খাদ্য তৈরির জন্য সূর্যের আলো হলো সবচেয়ে জরুরী। বাংলাদেশ গ্রীষ্মপ্রধান দেশ বলে এখানে বেশীরভাগ সময় গরম থাকে এবং দিন বড় হয়। যার ফলে গাছের খাদ্য উৎপাদন অনেক সহজ হয়। কিন্তু শীতকালে দিন ছোট হয় এবং সূর্যের আলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পাতায় পৌঁছায় না। যার ফলে গাছ যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না এবং পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ কমে যায়। শুধুমাত্র ক্লোরোফিলের কারণেই পাতা সবুজ দেখায়, তাই ক্লোরোফিল কমে যেতে থাকলে এর সবুজ রঙটাও দূর হতে থাকে এবং সম্পূর্ণ কমে গেলে পাতা ধূসর বর্ণ ধারণ করে একসময়ে ঝরে পড়ে।

পাতা ঝরে পড়ার দিক দিয়ে বাংলাদেশের গাছপালায় প্রকারভেদ আছে। কিছু গাছ আছে যাদের পাতা সারা বছরই ঝরে পড়ে এবং নতুন পাতা গজায়, এদের চিরসবুজ গাছ বলে। যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল, গর্জন ইত্যাদি। আবার কিছু গাছ আছে যাদের প্রায় সব পাতা শুধু একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে ঝরে পড়ে, এবং সেই ঋতু শেষ হলে পুনরায় গজানো শুরু হয়, তাদের পাতাঝরা গাছ বলে। যেমন- শিমুল, সেগুন, শিরিষ ইত্যাদি। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট অঞ্চলের বনভূমিগুলোকে চিরসবুজ বনভূমি বা চিরহরিৎ বনাঞ্চল বলা হয়। টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভুমিকে পাতাঝরা বৃক্ষের বনভুমি বলা হয়।