মঙ্গলে তরল পানি আবিষ্কার

4547

অবশেষে মঙ্গলে সন্ধান মিলল তরল পানির। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা যেটার জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। আর এ আবিষ্কারের ফলে মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে গেল অনেকগুন। গ্রহ বিষয়ক গবেষক রালফ জাউমানের ডয়েসেভেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেরিয়ে এসেছে এ আবিষ্কারের আরও খুঁটিনাটি।

ClassTune

মঙ্গলে তরল পানির অস্তিত্ব আবিষ্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, এই পানি খনিজ লবণে মিশ্রিত আছে। এই কারণেই মঙ্গলের পৃষ্ঠে এটাকে দেখা সম্ভব হয়েছে। প্রথমতঃ লবণ বরফের গলনাংক কমিয়ে দেয়। এর ফলে শূন্য ডিগ্রির নিচেও তরল পানি থাকতে পারে। যেহেতু মঙ্গলের তাপমাত্রা অনেক কম তাই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়তঃ লবণ পানির ঘনত্ব বিশুদ্ধ পানি ঘনত্বের চাইতে বেশি। এ কারণে মঙ্গলের কম চাপেও এই লবণ পানি অনেকদিন থাকতে পারে।

এই আবিষ্কার কতটা গুরুত্বপূর্ণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। কিন্তু পানির এই উপস্থিতি খুব কম এলাকাজুড়ে। বড়জোর কয়েকশ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট। আর এই পানি ভেজা কাঁদা হয়ে খাদের কিনার ধরে নেমে গিয়েছে। কিন্তু এখনো আমরা কোন লেক বা এরকম পানির আধার খুঁজে পাইনি’।

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমরা এখন স্থানটি খুঁজে পেয়েছি তাই আমরা এখন সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করবো। তরল পানি পাওয়ার ফলে সেখানে মহাজাগতিক জীবের উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে মঙ্গলগ্রহে বর্তমানে আমাদের যে রোভার বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি আছে সেগুলো দিয়ে প্রাণের অস্তিত্ব নির্ণয় সম্ভব নয়। সেখান থেকে আমাদের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে আসতে হবে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে’।

‘পৃথিবীর লবণ পানিতে অল্প পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে। সুতরাং মঙ্গলেও সে সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি সেখানকার সালফার সমৃদ্ধ অঞ্চল এবং প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর গরম পরিবেশেও সামান্য পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকতে পারে’।

এই আবিষ্কার ঘোষণা দেয়ার পর তার অনুভূতি কেমন হয়েছিল জিগ্যেস করলে তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা অনেকদিন ধরেই এটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। মঙ্গলে আগেই খনিজ লবণ এবং ক্লে মিনারেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। আর এই লবণ, ক্লে মিনারেল এবং বরফ একসাথে থাকলে তা বিক্রিয়া করে পানি উৎপন্ন করবেই। কিন্তু এটা এতদিন যাবত একটা তত্ত্বই ছিল। সেটা সত্যি প্রমাণিত হতে দেখে খুব ভালো লাগছে’।