যে যন্ত্র আলো মাপে

oval-2-2653101b

২৫ আগস্ট,২০১৩, অ্যাশেজ সিরিজের শেষ ম্যাচ। টানটান মুহূর্ত। ইংল্যান্ডের টার্গেট ২২৭ রান। জিততে ইংল্যান্ডের ২৫ রান প্রয়োজন আর হাতে আছে ৪ ওভার। খেলার বাকি ১৫ মিনিট।

এমন সময় আকাশ হালকা মেঘে ঢেকে গেলো। আম্পায়ার আলিম দার এসে পিচের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কি যেনো একটা হাতে নিয়ে উপরের দিকে কতক্ষণ ধরে রাখলো। তারপর এসে খেলা বন্ধ করে দিলো। কারণ বললো, আলো স্বল্পতার জন্যে খেলা আর হবে না। টেস্ট খেলায় ফ্লাড লাইট ব্যবহারও নিয়ম নেই।

খেলা ড্র হয়ে গেলো। আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনি উঠলো পুরো ওভাল স্টেডিয়ামে। 

আম্পায়ারের তো কিছু করার নেই। নিয়ম তো নিয়মই !

এখন কথা হচ্ছে যে জিনিসটি দিয়ে আম্পায়ার আলো পর্যাপ্ত আছে কিনা দেখলেন, সেটি আসলে কি?

এটি হচ্ছে লাইট মিটার। যার সাহায্যে পর্যাপ্ত আলো আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। আইসিসির ধারাবিধি ৩.৬ অনুযায়ী মাঠের আম্পায়ার আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুসারে লাইট মিটার ব্যবহার করতে পারেন। যদি লাইট মিটারে দেখা যায় আলোর তীব্রতা কমে যাচ্ছে তবে আম্পায়ার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন যে ঐ নির্দিষ্ট দিনে আর খেলা হবে না।  

এখন কথা হচ্ছে লাইট মিটার কি ?

সহজ কথা হলো লাইট মিটার হচ্ছে একটি ডিজিটাল যন্ত্র যার সাহায্যে আলোর দীপন ক্ষমতা ( Luminious Intensity ) পরিমাপ করা হয়। আলোর দীপনমাত্রার একক হচ্ছে ক্যান্ডেলা। দীপন ক্ষমতা হচ্ছে কোন আলোক উৎস থেকে কি হারে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে বা আলোক উৎস কত তীব্র। কোন আলোক উৎস থেকে প্রতি সেকেন্ডে কোন নির্দিষ্ট দিকে একক ঘনকোণে যে পরিমাণ আলোক শক্তি নির্গত হয় তাকে ঐ আলোক উৎসের দীপন ক্ষমতা বলে।

লাইট মিটারের একপ্রান্তে একটি সেন্সর যুক্ত করা থাকে, অন্য পাশে ক্যামেরার মত একটি অংশ। ক্যামেরার মত অংশ দিয়ে আলো ভিতরে প্রবেশ করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইট মিটারের সেন্সরে আলোর উপস্থিতির পরিমাণ জানিয়ে দেয়।

তবে আলোর উপস্থিতি ঠিক কতটুকু হলে খেলা চলবে আর কতটুকু হলে খেলা বন্ধ হবে, এরকম কিছু সুনির্দিষ্ট করা নেই বা আইসিসির ধারাবিধিতে উল্লেখ করা নেই। মূলত ক্রিকেট খেলার মাঠের আম্পায়াররা আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুসারে লাইট মিটারে আলোর তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করেন। যদি আলোর তীব্রতা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে তবে খেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়ে থাকে। 

ক্রিকেট খেলা ছাড়াও ফটোগ্রাফিতে লাইট মিটার ব্যবহার করা হয়। ফটোগ্রাফাররা মূলত লাইট মিটারের সাহায্যে ছবির exposure নির্ধারণ করে। এই exposure এর উপর নির্ভর করে ফটোগ্রাফাররা ক্যামেরায় কোন লেন্স ব্যবহার করতে হবে বা ক্যামেরার শাটারের গতি কেমন হবে তা জেনে থাকে।