রহস্যময় আধিভৌতিক তবে সত্যি

সবাই জানে হরর মুভিগুলোর ঘটনা নেহােয়তই বানোয়াট গালগপ্পো। তবুও সবাই দেখে, ভয় পায়। আসলেই তাই। তবে সিনেমা নির্মাণের সময়, মাঝে মাঝে তাদের আসলেই কিছু অতি প্রাকৃতিক ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। পাঠকদের জন্য হরর মুভি নির্মাণের সময় ঘটে যাওয়া তেমনই কিছু পর্দার অন্তরালের ঘটনা তুলে ধরা হল:

ClassTune

• The Amityville Movie : এই মুভি প্রথমে ১৯৭৯ সালে মুক্তি পায়। ২০০৫ সালে এর রিমেক হয়। শুটিংয়ের প্রথম দিন সেটের কাছের লেকে ভেসে আসে একটি লাশ। মুভি সেট হিসেবে সত্যিকারের একটি হন্টেড হাউজ বেছে নেয়া হয়।

সিনেমার নায়ক Ryan Reynolds-এর মতে বাড়িটি আসলেই খুব ভূতুড়ে ছিল। বাড়িটিতে এমন কিছু ছিল যার কারনে বাড়িটিতে পা দেওয়ার সাথে সাথে মন খারাপ হয়ে যেত।

জেনে রাখা ভালো, এই বাড়ির সদস্যরা ভোর ৩.১৫-তে সকলে খুন হয় এবং এরপর থেকেই বাড়িটিতে অতি প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটতে থাকায় কেউ আর কখনো বাড়িটিতে থাকতে পারেনি।

মুভির শুটিংয়ের সময় কোন এক অদ্ভুত কারনে প্রতিদিনই রাতে মুভির ক্রুদের ঘুম ভেঙ্গে যেতো। তবে ক্রুরা জানিয়েছেন, অনেক মানুষের চিৎকার শুনে তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। যতদিন মুভিটির শুটিং হয় প্রতিদিনই নাকি এই ঘটনা ঘটত।

• The Conjuring: পেরন পরিবারের সত্য ঘটনা অবলম্বনে ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া The Conjuring মুভিটির সেটেও নানা ধরনের অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। মুভির শুটিং দেখতে মুভির সেটে পেরন পরিবার পুরান বাড়িটিতে বেড়াতে আসেন।

পরিবারটি উঠানে বসে থাকা অবস্থায় লেকের পাশ থেকে তাদের দিকে দমকা হাওয়া বইতে থাকে এবং তাদের মাথার ওপর ঘূর্ণি বাতাস ঘুরতে থাকে। অথচ তাদের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা শুটিং ইউনিটের সদস্যদের দিকে কোন বাতাসই বইছিল না। তাদের বর্ণনানুযায়ী, পেরন পরিবার যেখানে বসে ছিল তার পিছনে থাকা গাছের একটি পাতাও নড়ছিলও না। অথচ প্রচণ্ড জোরে পেরন পরিবারের দিকে বাতাস বইছিল।

সেইদিনই ওই পরিবারের মা ক্যারলিন পেরন বাড়িটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে অশুভ কোন কিছুর উপস্থিতি টের পান, যা তাকে অনেক বেশি অস্বস্তিতে ফেল দেয় এবং তার ২ মিনিটের মধ্যেই ভদ্রমহিলা জ্ঞান হারান। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি একবারও ওই বাড়িতে পা রাখেননি।

এরপর থেকে অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। আরাে চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, শুটিং ইউনিটের সদস্যরা সেই শহরের যে হোটেলে উঠেছিল তাতে আগুন ধরে যায়। আগুনের তদন্তকারী সংস্থা আগুনের সূত্রপাত বের করতে পারেনি।

Vana Farmiga মুভিতে যিনি প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটরের ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন, প্রথম রাতে তিনি তার স্ক্রিপ্ট পড়ার জন্য ল্যাপটপ খুলে অনেকগুলো বড় বড় আঁচড়ের দাগ আবিষ্কার করেন!

• The Omen :  ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত এই চলিচ্চত্রের ঘটনা যে রকম ভয়ঙ্কর তেমনি মুভি তৈরির সময়ও অনেক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। শুটিং শুরু হওয়ার দুই মাস আগে, মুভির নায়ক Georgy Peck-এর পুত্র আত্মহত্যা করে।

মুভির শুটিংয়ের সময় ছবির প্রযোজক, নায়ক ও স্ক্রিপ্ট রাইটার আলাদা আলাদাভাবে তিনটি ফ্লাইটে বিজলী চমকানো ও বাজ পরার কারনে ৮ ঘণ্টা যাবত আটকা পড়ে থাকেন। মুভির শুটিংয়ের জন্য একটি প্রাইভেট প্লেন ভাড়া করা হয়। কিন্তু একজন ব্যাবসায়ীর সেই প্লেনটির দরকার পড়ায় তিনি নিজের ব্যাবহারের জন্য তা নিয়ে নেন ফলে মুভির শুটিংও পিছিয়ে পড়ে।

প্লেনটি যখন মুভি সেটে ফেরত আসে ঠিক তখন ল্যান্ডিংয়ের সময় এটি রানওয়েতে ক্র্যাশ করে এবং রানওয়েতে একটি গাড়ির সাথে ধাক্কা খায়। প্লেন ও গাড়িতে উপস্থিত সকলে তৈরি করে রাখা সেটেই মারা যায়।

• The Ghost Whisperer : এটি মুভি না হলেও প্যারানরমাল একটিভিটির ওপর নির্মিত এই সিরিয়াল তৈরির সময় অনেক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। প্রায়ই তাদের স্টোররুমে রাখা জিনিসপত্রে আগুন ধরে যেত। নায়ক নায়িকাদের মাথার উপর থাকা লাইট ফেটে গিয়েছে ৪ বার।

সেট এ অচেনা একজন লোককে প্রায় ঘুরতে দেখা যেত। একবার অভিনেত্রী জেনিফারের শট নেয়ার সময় তার পিছনে একটি ছায়া দেখা যায়, শুটিং ইউনিটের কয়েকজন ক্রু তা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই শ্যুট করা অংশটি পরবর্তীতে যখন দেখা হয়, তখন সেখানে জেনিফারের পিছনে একটি কাল অবয়ব দেখা যায়, যার মুখ জেনিফারের ঘাড়ের একদম কাছে ছিল।

এ ধরনের আরও অনেক আধিভৌতিক ঘটনার কারনে সিরিয়ালে অতিথি চরিত্রের জন্য অভিনেতা অভিনেত্রীরা কাজ করতে রাজি হচ্ছিলেন না।