Friend or Foe

iff-2

ধরো একটি বিমান একটি দেশের সীমানায় ঘুরাপাক করছে এবং যে দেশের সীমানায় ঘুরপাক করছে সে দেশের বিমান কর্তৃপক্ষ রাডারে তা দেখতেও পেলো কিন্তু বুঝতে পারছে না যে এই বিমানটি নিজ দেশের নাকি অন্য দেশের ? এই পরিস্থিতে কি করবে বিমান কর্তৃপক্ষ ? আসলেই ভাবার বিষয়।  

আমরা জানি, রাডার হচ্ছে এমন এক যন্ত্র যেটাতে যেকোনো বিমান ধরা পড়ে। কিন্তু কোন বিমান আক্রমণ করতে আসছে, আর কোনটা আক্রমণ করতে আসছে না তা কীভাবে বোঝা যাবে? এরও সমাধান আছে। যে পদ্ধতিতে কোন বিমান শত্রুপক্ষের নাকি নয় তা বের করা যায়, তাকে Identification Friend or Foe (IFF) বলা হয়।

ClassTune

বিমানবন্দর থেকে রাডারের মাধ্যমে যখন কোন বিমান ধরা পড়ে, তখন রেডিওর সাহায্যে সেই বিমানে যোগাযোগ করা হয়। বিমানটি অন্য দেশের হলে যদি কোন উত্তর না পাওয়া যায়, তখন ধরে নেয়া হয় যে এটি শত্রুপক্ষের বিমান। সেই ক্ষেত্রে আশংকাজনক আক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। IFF সর্বপ্রথম ব্যবহার শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে। ব্রিটিশরা তাদের রাডার স্থাপন করার পর থেকে বেশ ভালোই যুদ্ধ করে যাচ্ছিলো, কিন্তু সমস্যা বাঁধলো বিমান চিহ্নিত করা নিয়ে। অর্থাৎ, কোনটা নিজেদের আর কোনটা শত্রুপক্ষের সেটা বের করা সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো। তখন তারাই উদ্ভাবন করলো এ প্রক্রিয়ার, তারা তাদের বিমানে একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস বসালো যাতে করে রাডারে তাদের নিজেদের বিমানগুলো ধরা পড়ে। 

আধুনিক IFF পদ্ধতি দুটি সিগন্যালে কাজ করে। একটি সিগন্যালে অপরিচিত বিমানের সাথে যোগাযোগ করে প্রশ্ন করা হয়, এবং অপরটি দিয়ে তাদের উত্তর গ্রহণ করা হয়। যদি বিমানের পাইলট কোন উত্তর না দেন, বা উত্তরটি সঠিক না হয়, তখন তাঁকে কয়েকবার নির্দেশ দেওয়া হয় বিমান অবতরণ করানোর জন্য। যদি তিনি না করেন, সে ক্ষেত্রে নিজেদের সুরক্ষার জন্য বিমান বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয় বিমানটিকে ভূপাতিত করার জন্য।

Automatic Target Recognition (ATR)  এর দ্বারাও একটি বিমান চিহ্নিত করা যায়। Automatic Target Recognition (ATR) এর কাজ হচ্ছে কোন বিমান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা। তথ্য বিশ্লেষণ শেষে বিমানের Bearing এবং Range এর উপর নির্ভর করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হয়। যদি বিমানটি Foe বলে চিহ্নিত হয় তবে বিমানটিকে ভূপাতিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।