শিশুদের বন্ধু ব্যাটম্যানের চিরবিদায়

গথামের ব্যাটম্যান আর নেই। সেই সাথে পৃথিবী হারাল এক সত্যিকারের সুপার হিরোকে। আমেরিকার ল্যানি বি রবিনসন যিনি কিনা ‘রুট ২৯ ব্যাটম্যান’ নামে সবার কাছে বেশি পরিচিত ছিলেন। গত রোববার আমেরিকার ম্যারিল্যান্ড রাজ্যের হ্যাগারসটাউন শহরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। হ্যাগারসটাউন স্টেট পুলিশ ডিপার্টমেন্ট তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

রবিনসনের বিশেষ ব্যাটমোবাইল (এটি আসলে একটি ল্যাম্বরগিনি গাড়ি) হঠাৎ করে ইঞ্জিনে সমস্যা করতে থাকে। তিনি রাস্তার একপাশে গাড়ি থামিয়ে ইঞ্জিন পরীক্ষা করার সময় পেছন থেকে আরেকটি গাড়ি এসে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ৫১ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী। তবে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়া টয়োটা ক্যামরি গাড়ির চালকের কোন ক্ষতি হয়নি।

রবিনসন সবার নজরে আসেন ২০১২ সালে। ম্যারিল্যান্ডের রাস্তা দিয়ে ল্যাম্বরগিনি চালানোর সময় পুলিশ তার গাড়ির গতি রোধ করে।

কেননা তার গাড়ির কোন নাম্বারপ্লেট ছিলো না, সেখানে শুধু ব্যাটম্যানের একটি লোগো লাগানো ছিল।

রবিনসন গাড়ি থেকে নামার পর পুলিশরা দেখলেন আগাগোড়া ব্যাটম্যানের পোশাক পরা এক ব্যক্তি। এ যেন কমিক্সের পাতা থেকে উঠে আসা সত্যিকারের ব্যাটম্যান।

পরে জানা যায়, ২০০১ সাল থেকেই রবিনসন হাসপাতালের অসুস্থ বাচ্চাদের প্রতি সপ্তাহে দেখতে যান। তারই অংশ হিসেবে তিনি ব্যাটম্যান সেজে শিশুদের আনন্দ দেন।

দ্য ওয়াশিংটন পত্রিকা প্রথম রবিনসন সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশ করে। ওই রিপোর্ট থেকে জানা যায়, তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

যেসব শিশুরা ক্যান্সার এবং অন্যান্য দূরারােগ্য অসুখের সাথে যুদ্ধ করছে, ব্যাটম্যান সেজে তাদেরকে তিনি আনন্দ দেন, উৎসাহ প্রদান করেন। মাঝে মাঝে ব্যাটম্যানের সহযোগী রবিন সেজে তার ছেলেও তার সঙ্গে যোগ দিতেন।

রবিনসন বাচ্চাদের সাথে ছবি তুলতেন, তাদের বেঁচে থাকার প্রেরণা যোগাতেন। শুধু তাই নয়, ব্যাটম্যান সম্পর্কিত বিভিন্ন পণ্যের জন্য তিনি বছরে প্রায় ২৫ হাজার ডলার সম্পূর্ণ নিজের পকেট থেকে খরচ করতেন এবং বাচ্চাদের খেলনা, টিশার্ট আর বই উপহার দিতেন।

Superherosforkids.org নামে একটি ওয়েবসাইটও চালু করেন রবিনসন। তিনি বাচ্চাদের সবসময় শেখাতেন, ‘ব্যাটম্যান যেভাবে যুদ্ধের মোকাবেলা করে অনেক সাহস আর শক্তি নিয়ে, তোমাদেরও তেমনি অসুখের সাথে মোকাবেলা করে যেতে হবে। কখনও আশা হারাবে না’।

রবিনসন এক সাক্ষাৎকারে, ‘প্রত্যেকটা সাধারণ মানুষেরই কিছু দায়িত্ব থাকে। আর আমি সে দায়িত্বটা পালন করছি বাচ্চাদের জন্য। তাদেরকে সাহস দিচ্ছি, সবসময় হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করছি’।