আফ্রিকার শিং

horn_of_africa
ছবি : সংগৃহীত

আফ্রিকার শিং আফ্রিকার জঙ্গলে থাকা কোনো পশুর মাথার শিং নয়। এই অদ্ভুত নামটা আসলে আফ্রিকার একটি উপদ্বীপের নাম। জিবুতি, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া – এ চারটি দেশ নিয়ে গঠিত “আফ্রিকার শিং” খ্যাত অঞ্চল বা Horn of Africa। এই অঞ্চলটি অ্যারাবিয়্যান সাগর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে এবং গালফ অফ এডেন এর বরাবর দক্ষিণে অবস্থিত ও এর প্রসার ঘটেছে আফ্রিকা মহাদেশের পূর্ব প্রান্তিক অংশে। সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে শিং এর আকারে আরব সাগরে প্রসারিত হয়েছে বলে অঞ্চলটির নামকরণ করা হয়েছে আফ্রিকার শিং নামে। কেউ কেউ সুদান ও উত্তর-পূর্ব কেনিয়াকেও এই অঞ্চলের আওতায় রাখতে চান।

কিছু বিচিত্র মরুভূমি নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অগাডেন এবং ডানাকিল মরুভূমি। “Horn of Africa” এর  উপকূলের পানি মিশে যায় লোহিত সাগর, গালফ অফ এডেন, এবং ভারত সাগরের সাথে। আফ্রিকার শিং খ্যাত এই অঞ্চলটি আফ্রিকার অনেক সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে বহন করে এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য সভ্যতা হচ্ছে ইথিওপিয়ার ও ইরিত্রিয়ার আকসুম সভ্যতা, সোমালিয়ার পুন্ট সভ্যতা ও সুদানের কুশ সভ্যতা। অঞ্চলটির আয়তন প্রায় ২০ লাখ বর্গ কিলোমিটার। প্রায় ১০ কোটি মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে। এখানে বসবাসরতরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক হলেও তাদের মধ্যে নানা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত।

তবে গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। ২০০৭-২০০৮ দিকে এখানে সোমালিয়া উপকূলের জলদস্যুদের ক্রিয়াকলাপ তৎপরটা আন্তর্জাতিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, সীমান্ত যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ এবং সোমালিয়ার অস্থিতিশীল অবস্থা অঞ্চলটির মধ্যে বিচ্ছিন্নবাদী প্রবণতা সৃষ্টি করেছে। এমনকি জলবায়ু ও পরিবেশগত অবস্থা ভালো না থাকায় অপুষ্টি এবং খাদ্য সংকটও লেগে থাকে এই অঞ্চলে। ২০১১ সালের দিকে খরার কবলে এখানকার লাখ লাখ মানুষ  বিপন্ন ও অসহায় অবস্থার মুখোমুখি হয় ( বলা হয়ে থাকে গত ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা দেয় এখানে)।