আরেকটি বাংলাওয়াশের অপেক্ষায়

প্রথম ম্যাচে সফরকারী পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ৭৯ রানে হারিয়ে তাদের বিপক্ষে টানা ১৬ বছর পর ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। তবে এরপরের জয়টি পেতে বেশিদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়নি সমর্থকদের।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ২য় ম্যাচে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে (২-০) সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে মাশরাফি বাহিনী। যা পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মত কোন সিরিজ জয়। বাংলাদেশের এটি ১৮তম সিরিজ জয়।

অধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার সমালোচিত ওপেনার তামিম ইকবাল টানা ২ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি করে এখন ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। দুঃসময়কেও দারুণভাবে পেছনে ফেলে ক্রমশ আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন এই ড্যাশিং ওপেনার।

ব্যাটিংয়ে তার শটগুলোতেও তা বেশ লক্ষনীয়। সিরিজ জয়েও সবচেয়ে মুখ্য ভূমিকা তার। এই অসাধারণ নৈপুণ্যের ফলে তিনি বাংলাদেশের হয়ে অনেকগুলো রেকর্ড বগলদাবা করে নিয়েছেন ।

বাংলাদেশের হয়ে সব ধরণের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড, সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি, সবচেয়ে বেশি হাফ-সেঞ্চুরি, সবচেয়ে বেশি চার ও সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড এখন শুধুই তামিম ইকবালের। শাহরিয়ার নাফিস ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের পর তিনিও টানা ২ ম্যাচে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন।

অনেকদিন ধরেই ধারাবাহিক ফর্মে রয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ১ম ম্যাচে ৬৯ বলে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের পক্ষে ৩য় দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ২য় ম্যাচেও হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন ‘রান মেশিনে’ পরিণত হওয়া এই ব্যাটসম্যান।

দুই ম্যাচেই শতাধিক রানের পার্টনারশিপ করেছেন তামিম-মুশফিক। ১ম ম্যাচে ৩য় উইকেট জুটিতে ১৭৮ রান করেন। এটিই ওয়ানডেতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ।

কাকতালীয় ব্যাপার হচ্ছে এই সিরিজ নিশ্চিত করার ম্যাচে ৭১ বল হাতে রেখেই জয় পায় বাংলাদেশ। এ যেন সেই ১৯৭১ এরই পুনরাবৃত্তি। এখন অপেক্ষা শুধু আরেকটি বাংলাওয়াশের।

অদম্য টাইগাররা কি পারবে ১০ম বারের মত প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে? এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী ২২শে এপ্রিল। তৃতীয় ওয়ানডেতে অপরিবর্তিত দল নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ ।