আয় ঘুম আয়

তোমার বয়স কি ১৩ থেকে ১৯-এর মধ্যে? তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে তুমি একজন 'টিন'-এজার। এ বয়সে বেশ কিছু ঝামেলার মধ্যে একটি হচ্ছে ঘুমের সমস্যা।

হয় রাত জেগে পড়ালেখা করছো, কিংবা আগামীকালের ক্লাসের জন্য প্রেজেন্টেশন তৈরি করছ বন্ধুরা মিলে অথবা আড্ডায় মেতে রয়েছ ফোনে, ফেসবুকে কিংবা ভাইবারে- ঘুমানোর সময় কোথায়! এই ব্যস্ততা আর সৃষ্টিশীল রাতের ফাঁক থেকেই কিন্তু তোমাকে ঘুমের সময়টা বের করে নিতে হবে।     

ঘুম কি জানো তো? ঘুম হচ্ছে মস্তিষ্কের খাদ্য! তুমি যদি সময় মতো না খাও তাহলে তোমার শরীরে যেমন অস্বস্তি কিংবা অসুস্থতা তৈরি হয়; ঠিক তেমনই মস্তিষ্কের ক্ষেত্রেও হয়। সে যদি ঠিক সময়মত ঘুম না পায় তাহলে তারও চক্রে সব ওলটপালট হয়ে যায়। একজন টিনএজারের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমানোর নিয়ম।

চলো জেনে নেই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘুমের প্রয়োজন কতোটুকু:

আমরা যারা টিনএজ তাদের শরীরের 'সার্কেডিয়ান রিদম' কিংবা দেহঘড়িতে কিছু পরিবর্তন ঘটে। এই ঘড়ি আমাদের বলে একটু দেরি করে ঘুমাও এবং দেরি করে ঘুম থেকে উঠ। এর কারণ শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় টিনএজারদের ব্রেইন হরমোন মেলাটোনিন রাতে একটু দেরি করে নিঃসৃত হয়। এ জন্যই টিনএজারদের রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম আসেনা।

এছাড়াও, রাত জেগে পড়ার অভ্যাস, খেলাধুলায় বেশি সময় দেওয়া কিংবা এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিতে টিনএজারদের একটু বেশিই ব্যস্ত থাকতে হয় বলে ঘুমের কথা তেমন মনেই থাকেনা!

দেখা যায় পুরো সপ্তাহের ঘুম গিয়ে জড়ো হয় শুক্রবার অর্থাৎ ছুটির দিনে! এটি কিন্তু মোটেও ভাল কথা নয়। কারণ তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং তাড়াতাড়ি ওঠা-এই দুটি অভ্যাসই শরীর ভাল রাখার ক্ষেত্রে জরুরি। শুধু শারীরিক নয়, তোমার মানসিক সুস্থতায়ও প্রভাব পড়বে যদি প্রতিদিন পরিপূর্ণ ঘুম না হয়।

সময়মত এবং পরিমাণমত ঘুম না হলে তোমার যেই অসুবিধাগুলো হতে পারে সেগুলো হচ্ছে :     
* ক্লাসে কিংবা কোন কাজে মনোযোগ দিতে না পারা।

* খেলাধুলায় পিছিয়ে  পড়া।  

* মেজাজ খিটখিটে থাকা।

* মন খারাপ কিংবা ডিপ্রেশনে ভোগা।

এবার তাহলে বলি কী করলে তুমি প্রতিদিন ৮-৯ ঘণ্টা অনায়াসে ঘুমোতে পারবে!

* একটি ঘুমের রুটিন সেট করে ফেল। অর্থাৎ প্রতি রাতে, এমনকি ছুটির রাতেও ঠিক এই সময়েই ঘুমাবে এবং পরের দিন সকালে কখন উঠবে সেটিও নির্দিষ্ট থাকতে হবে।

* খুব জরুরি হলে ঘুমানোর সময় ১ ঘণ্টা এবং ঘুম থেকে ওঠার সময় ২-৩ ঘণ্টা পেছানো পার।

* তোমার যদি রাতে ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই ঘুমানোর কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা আগে সেরে ফেলতে হবে।

* বিকেল ৪টার পর ক্যাফেইনসমৃদ্ধ কোন পানীয় পান করা যাবেনা।        

* ঘুমানোর আগে এমন কোন বই পড়া কিংবা মুভি দেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখবে যার ফলে তোমার মস্তিষ্কে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

* ঘুমানোর সময়  চোখ এবং কানকে পরিপূর্ণ আরাম দিতে হবে। কোন আলো কিংবা আওয়াজ যদি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় সেটিকে এড়িয়ে চলার সকল ব্যবস্থা নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, শরীর এবং মন ঠিক রাখতে দৈনন্দিন কাজের মত ঘুমানোটাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।