ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইটের তালিকায় নতুন ৪ স্থান

ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের ইস্তানবুল শহরে ১০ জুলাই শুরু হয়েছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ কমিটি বা বিশ্ব ঐতিহ্য পরিষদের বার্ষিক সভা। আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত তারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের নতুন তালিকা নিয়ে কাজ করবে। ১ হাজারেরও বেশি স্থান থেকে ২৭টি স্থান বিবেচনার তালিকায় রাখা হয়েছে।

নিজেদের দেশের বিভিন্ন স্থানকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত করতে সব দেশই অত্যন্ত আগ্রহী। কেননা দেশের পর্যটনে এসব স্থানের ভূমিকা অনেক এবং এগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে বেশি।

এরই মধ্যে ৪টি স্থানকে নতুন করে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে চীনের Zuojiang Huashan Rock Art Cultural Landscape। এখানে প্রস্তরচিত্রখচিত ৩৮টি স্থান রয়েছে। এই চিত্রগুলোর মাধ্যমে খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতক থেকে ২য় খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ‘লুয়ে ইয়ো’ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে। বস্তুত এই চিত্রগুলোর দ্বারা চীনের দক্ষিণাঞ্চলের ব্রোঞ্জ যুগের সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়।

 

শুক্রবার গৃহীত এই নতুন তালিকার মধ্যে রয়েছে ভারতের বিহারে অবস্থিত নালন্দা মহাবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। এখানে গৌতম বুদ্ধের একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় অব্দ থেকে ১৩শ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চালু ছিল এই প্রতিষ্ঠান। এখানে পাথর, ধাতু ও বিভিন্ন রকম প্রলেপের দ্বারা তৈরি চিত্র রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ্য করা হয় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে।

‘পার্সিয়ান কানাত’ নামে ইরানের প্রাচীন পানি পরিবহনের একটি স্থানকে নতুন ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইটের তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে। এখানে মোট ১১টি কানাত এখনো অবশিষ্ট রয়েছে। শুষ্ক ও রুক্ষ আবহাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে অনেক দূরবর্তী অঞ্চলেও কীভাবে পানি পরিবহন করা যায় তা বোঝা যায় এই পদ্ধতি থেকে।

 

চতুর্থ স্থানটি রয়েছে মাইক্রোনেশিয়ায়। নান মাদল নামের এই স্থানে ব্যাসাল্ট ও প্রবালের তৈরি ৯৯টি ক্ষুদ্র দ্বীপ আছে। ১২শ থেকে ১৫শ শতকের মধ্যবর্তী সময়ের বিভিন্ন মন্দির, সমাধি ইত্যাদির অবশিষ্ট রয়েছে এখানে।