নতুন বছরের প্রতিজ্ঞা

নিউ ইয়ার রেজুল্যুসন (resolution) একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ঐতিহ্য, যা হল বছরের শুরুতে নিজেকে উন্নত করার প্রতিজ্ঞা। এটি পশ্চিমাদের মধ্যে প্রচলিত সংস্কৃতি হলেও বর্তমানে এর অনুশীলন সারা বিশ্বেই দেখা যায়।

ধার্মিক উৎসের ক্ষেত্রে প্রাচীন বেবিলোনিয়ানরা  (Babylonian) এই প্রথাটি শুরু করে। তাদের কোন ঋণ ও ধার থাকলে বছরের শুরুতে ঈশ্বরের কাছে সেগুলো শোধ করার প্রতিজ্ঞা করতো। এবং রোমানরা তাদের Janus (যার নাম থেকে জানুয়ারি নামতি আসে) নামের দেবতার কাছে নানান প্রতিজ্ঞা করতো এবং সারা বছর জুড়ে সেগুলো পালনের চেষ্টা করতো।

ধীরে ধীরে এটি অন্যানদের মধ্যে প্রচলিত হতে দেখা যায় এবং ২১শতকের শুরুতে ও Great Dipression-=এর শেষে অ্যামেরিকানরা  এটিকে জনিপ্রয় করে তুলতে শুরু করে।  
জনপ্রিয় কিছু নিউ ইয়ার রেজুল্যুসন হল রোজ কোন ভালো কাজ করা, মিথ্যা বলা বন্ধ করা, টাকা জমানো, রেজাল্ট ভালো করা, চিন্তাশক্তি আরও ইতিবাচক করা, বাবা-মা কে সাহায্য করা, টেলিভিশন কম দেখা, ঘরের কাজে সাহায্য করা, রোজ সকালে হাঁটতে যাওয়া, রাস্তায় ময়লা না ফেলা, কম্পিউটার এ সামাজিক মাধ্যম এ কম সময় যাপন করা ইত্যাদি।

সব রেজুল্যুসন এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় রেজুল্যুসন হল ওজন কমানো। ২০০৭ সালের একটি পিরসংখ্যানে দেখা যায় আমেরিকার ৩৮ শতাংশ মানুষ এই প্রতিজ্ঞাটি করেছে এবং তাদের মধ্যে ১৩% নিজেদের প্রতিজ্ঞা পূরণ করতে পেরেছে। ২০০২ সালের একটি জরিপে দেখা যায়, যেই শিশুরা নতুন বছরে নিজেকে উন্নত করার জন্য কোন প্রতিজ্ঞা করে সেটায় অটুট থাকে, তবে তাদের সেলফ গ্রুমিং অনেক শক্তিশালী হয় এবং তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে শিখে।

যারা ছোটবেলা থেকে এই অভ্যাসটি গড়ে তুলে তাদের মধ্যে ভবিষ্যতে কথা দিয়ে কথা রাখার প্রবনতা দেখা যায়। এবং বড়দের চেয়ে ছোটরাই তাদের লক্ষে বেশি পৌছাতে পারে। জরিপে আরও দেখা যায় যে ২০ বছরের কম বয়সীরা শতকরা ৪৭জন ও মাঝ বয়সীরা শতকারা ১৪ জন নিজেদের প্রতিজ্ঞা পালনে সক্ষম।

মনোবিজ্ঞানী Dr. Ed de St. Aubin রেজুল্যুসন-এর ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়েছেন, জেনেরেটিভ (generative) লক্ষ্য স্থির করতে। যেমন পরিবারকে বেশি সময় দেওয়া, পড়াশুনায় মনোযোগী হওয়া, ঈশ্বরের কাছে বেশি প্রার্থনা করা, সুবিধাবঞ্চিতদের সাহায্য করা ইত্যাদি। এসব লক্ষ্য যারা স্থির করে, এবং তাতে জয়ী হয় তারা জীবনে অনেক সুখী হয় ও অর্থপূর্ণ জীবনযাপন করতে দেখা যায়।