পাওয়ার প্লে কি?

ক্রিকেট খেলার মাঝখানে আম্পায়ারকে প্রায়ই দেখা যায় সামনের দিকে হাত ঘুরিয়ে কিছু একটা নির্দেশ দিচ্ছেন। কিন্তু কিসের নির্দেশ এটা? এটা হচ্ছে পাওয়ার প্লে’র নির্দেশনা। ক্রিকেট খেলাকে আরও মজার, আরও উত্তেজনাময় করে তুলতে ২০০৫ সাল থেকে ক্রিকেটে সংযোজন করা হয় ‘পাওয়ার প্লে’ নামক এই নতুন নিয়ম। এই নিয়ম চালু হওয়ার পর ক্রিকেটের গতি আর রানের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেড়ে গিয়েছে। ক্রিকেট খেলায় পাওয়ার প্লে বলতে মূলত বোঝায় নির্দিষ্ট কিছু ওভারকে, যে ওভারগুলোর সময় নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিল্ডার ৩০-ইয়ার্ড সার্কেলের (ক্রিকেট পিচ থেকে ২৭ মিটার ব্যাসার্ধ এলাকা) বাইরে যেতে পারে না।

পাওয়ার প্লে শুধুমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর টি২০ ক্রিকেটেই ব্যবহৃত হয়। ৫০ ওভারের খেলায় প্রথম ১০ ওভার থাকে মেন্ডেটরি পাওয়ার প্লে। এ সময় ১১ জন ফিল্ডারের মধ্যে মাত্র ২ জন ফিল্ডার মাঠের ৩০-ইয়ার্ড সার্কেলের বাইরে গিয়ে ফিল্ডিং করতে পারবে। ২য় আরেকটি পাওয়ার প্লে দেয়া হয় যেটিকে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’ও বলা হয়ে থাকে। মাঠে থাকা ২ জন ব্যাটসম্যানের ইচ্ছের ওপরেই এই পাওয়ার প্লে দেয়াটা নির্ভর করে। তবে তার মধ্যেও কিছু নিয়ম আছে। ১৫ তম ওভারের পর থেকে ৪০ তম ওভারের মধ্যবর্তী যেকোনো ৫ ওভার তারা পাওয়ার প্লে হিসেবে নিতে পারবে।

ClassTune

তবে এ সময় ৩০-ইয়ার্ড সার্কেলের বাইরে ফিল্ডার থাকতে পারবে ৩ জন। পাওয়ার প্লে ছাড়া খেলার বাকি ৩৫ ওভার মাত্র ৪ জন ফিল্ডার ৩০-ইয়ার্ড সার্কেলের বাইরে থাকতে পারে। তবে টি২০ ক্রিকেটের ক্ষেত্রে নিয়মটা একটু ভিন্ন। ২০ ওভারের এ খেলায় প্রথম ৬ ওভার থাকে পাওয়ার প্লে। এসময় মাত্র ২ জন ফিল্ডার ৩০-ইয়ার্ড সার্কেলের বাইরে থাকতে পারে। বাকি ওভারগুলোতে বাইরে থাকতে পারে সর্বোচ্চ ৫ জন ফিল্ডার।

পাওয়ার প্লে বিষয়টা নতুন হলেও এই চিন্তাভাবনা কিন্তু অনেক আগেই শুরু হয়েছিলো। ১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে প্রথমবারের মত ফিল্ড রেস্ট্রিকশন চালু হয়। ২০০৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাওয়ার প্লে’র সূচনা করে। তখন ম্যান্ডেটরি পাওয়ার প্লে’র পরে ৫ ওভার করে ২ বার পাওয়ার প্লে নেয়া যেত। দুটিই হত বোলারদের ইচ্ছেমতন। ২০১১ সালে নিয়ম করা হলো যে একটি পাওয়ার প্লে হবে ব্যাটসম্যানদের ইচ্ছায়। এটাও বলা হলো যে পাওয়ার প্লে নিতে হবে ১৫ থেকে ৪০ তম ওভারের মধ্যে। ২০১২ সালে আবার ৩টি পাওয়ার প্লে কমিয়ে ২টি পাওয়ার প্লে দেয়ার নিয়ম চালু হলো এবং এখন পর্যন্ত সে নিয়মই বহাল আছে।