পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি

kenya

ভূপৃষ্ঠের কত রকমফের রয়েছে তা বলে শেষ করা যাবে না। কোথাও বিশাল মরুভূমি, আবার কোথাও মাইলের পর মাইল জুড়ে বরফ আর বরফ। আবার কোথাও বালু, আর কোন কোন জায়গায় বরফের স্থানে সবুজ ঘাসের খেলা। এই ঘাসের আচ্ছাদিত বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে তৃণভূমি বলা হয়।

আমাদের আজকের আলোচনা পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি নিয়ে। বিস্তীর্ণ তৃণভূমিগুলোর কিছু নমুনা দেখে নেয়া যাকঃ

ClassTune

স্টেপ তৃণভূমিঃ স্টেপ তৃণভূমি বলতে মূলত নদী বা যেকোনো জলাধারের নিকটে অবস্থিত তৃণভূমিগুলোকে বোঝায়। পৃথিবীর সব মহাদেশেই কম বেশি স্টেপ তৃণভূমির দেখা মেলে।

ছবিঃ মঙ্গোলিয়ার তৃণভূমি

মধ্যএশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের সম্মিলিত তৃণভূমি (Great Steppe) সবচেয়ে বৃহৎ তৃণভূমি নামে পরিচিত। এশিয়ার মঙ্গোলিয়াতে রয়েছে এই তৃণভূমির খুবই বড় একটি অংশ। এটি আধা মরুভূমি হিসেবেও পরিচিত। তাপমাত্রার উঠানামা এখানে চোখে পড়ার মতো। ৪০ ডিগ্রী থেকে নামতে নামতে -৪০ এ গিয়ে ঠেকে কখনো কখনো।

স্টেপ তৃণভূমি মূলত দুই ধরণের। 

১. পাথুরে পর্বতমালা সমৃদ্ধ Temperate Steppe

২. সামান্য স্যাঁতস্যাঁতে Subtropical Steppe

সাভানা তৃণভূমিঃ সাহারা মরুভূমি থেকে আলাদা হয়ে আসা আফ্রিকার বিস্তীর্ণ তৃণভূমি সাভানা তৃণভূমি নামে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধরনের পশু, বিশেষ করে জেব্রা, জিরাফ এবং ফ্ল্যামিংগো বেশি দেখা যায়। এই তৃণভূমির চারপাশ ঘিরে রয়েছে কালাহারি মরুভুমি। আর এর মাঝেই অবস্থিত সাভানা তৃণভূমি।

ছবিঃ কেনিয়ার বিস্তীর্ণ তৃণভূমি 

পুরো অঞ্চল ঘাসে ঢাকা থাকলেও এই তৃণভূমিতে অল্পবিস্তর ছোটো বড় গাছেরও দেখা মেলে। বছরে প্রায় ৫৯ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয় এই অঞ্চলে। অন্যান্য তৃণভূমির চেয়ে তুলনামুলক বেশি উত্তপ্ত থাকে এই তৃণভূমিটি। অনেকসময়ই দাবানল দেখা যায় এই তৃণভূমিতে।

প্রেইরি তৃণভূমিঃ উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত তৃণভূমি এই প্রেইরি তৃণভূমি। এই তৃণভূমি একসময় প্রায় ১৪২ মিলিয়ন একর এলাকা জুড়ে বিস্তীর্ন ছিলো। পুরো আমেরিকার প্রায় ৪০% ভূমি এই প্রেইরির অধীনে ছিলো। কিন্তু কালের বিবর্তনে এটি অনেক ছোটো হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৮,০০০ বছর আগে গঠিত এই তৃণভূমি বর্তমানে দক্ষিন আমেরিকা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।

ছবিঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ডেকোটার তৃণভূমি

প্রেইরি তৃণভূমির সবচেয়ে আলোচিত ব্যাপার হচ্ছে এর দাবানল। প্রায় ৭০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রার এই অঞ্চলের দাবানলের গতি মিনিটে ৫০০/৬০০ ফুট। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই দাবানলে প্রেইরির ঘাসগুলোর তেমন ক্ষতি হয় না। কারণ, এই দাবানলে সৃষ্ট জলীয় বাষ্প প্রেইরির ঘাসের মূল উপাদান। 

পাতাগোনিয়া তৃণভূমিঃ আর্জেন্টিনা এবং চিলির মধ্যবর্তী পাতাগোনিয়া তৃণভূমি প্রায় ১০,৪৩,০৭৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে। এই তৃণভূমি এতই বড় যে এর সীমানার ভেতরে ৬টি পার্ক রয়েছে। পার্কগুলো হলো, Torres del Paine (Chile), Los Glaciares (Argentina), Laguna San Rafael (Chile), Nahuel Huapi (Argentina), Tierra del Fuego (Argentina) এবং Alberto de Agostini (Chile)।

ছবিঃ পাতাগোনিয়া তৃণভূমি, চিলি

ডাউনস তৃণভূমিঃ  অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থিত তৃণভূমির নাম ডাউনস তৃণভূমি। এই তৃণভূমিতে ৪৬০ প্রজাতির পাখি ও ১১০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর উপস্থিতি দেখা যায়। এই তৃণভূমিতে ক্যাঙ্গারু, ওয়ালাবি, ইমু, ডিঙ্গো ইত্যাদি প্রাণীর বিচরণ দেখা যায়।