প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

hidden-gem-of-the-grand-canyon-horseshoe-bend-1
ছবি : সংগৃহীত

রুক্ষ পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে যাচ্ছে স্বচ্ছ নদীর ধারা। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেটে অবস্থিত লম্বা গিরিখাত, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। এই গিরিখাতের দৈর্ঘ্য ২৭৭ মাইল বা ৪৪৬ কিলোমিটার ও এর গভীরতা প্রায় ১ মাইল, তবে কিছু স্থানে প্রায় ১৮ মাইল পর্যন্ত চওড়া। এই গিরিখাতের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কলোরাডো নদী। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের খ্যাতি কিন্তু শুধু এর দৈর্ঘ্য বা গভীরতার জন্য নয়। পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বাহারি রঙয়ের সৌন্দর্য উপভোগ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমনপিপাসুরা এখানে আসেন। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে রয়েছে প্রায় ১৭৩৭ ভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ ও প্রায় ৩৪ প্রজাতির প্রাণী।

ClassTune

পৃথিবীর বহু কালের সাক্ষী এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১৭ মিলিয়ন বছর আগে। বিচিত্র সব রঙয়ের বিশাল বিশাল সব পাথরে ঘেরা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন কিভাবে সৃষ্টি হলো? এই বিশাল এলাকার গিরিখাতের সৃষ্টিতে কলোরাডো নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খরস্রোতা কলোরাডো নদী বয়ে যাওয়ার সময় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মাটিতে জমা করতো পলি মাটি। ধীরে ধীরে পলির পরিমাণ বাড়তে থাকলে সেই পলি জমে পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। এই পাথরের ফলেই, নদীর চলাচল পথে বাধা সৃষ্টি হতে থাকে। পুরোনো কলোরাডো নদী হতে বর্তমান কলোরাডো নদীর ব্যাবধান প্রায় ৬ কিলোমিটার। বর্তমান কলোরাডো নদী অনেক খাড়া ভাবে নীচে নেমে এসেছে। ফলে পুরোনো নদী তার গতি পথ পরিবর্তন করে ফেলেছে। এই পরিবর্তিত নদীপথই লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ধৈর্যের সাথে তৈরি করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। পৃথিবীর বিভিন্ন সময়ে যেমন – বরফযুগে, বরফযুগের পরবর্তী সময়ে, অগ্ন্যুৎপাতের সময়ে পৃথিবীর সাথে সাথে এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়নও বিবর্তিত হয় এবং আজকের রূপ লাভ করে।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের পাথরগুলো বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। এই স্তরগুলোকে বলা হয় “প্লেট” । কলোরাডো নদীর চলাচলের ফলে এই স্তরগুলো সৃষ্টি হয়েছে, তাই এদেরকে বলা হয় “কলোরাডো প্লেট”। গবেষণার ফলে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনেক ভূতত্ত্ববিদের মতে এই স্তরগুলো গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের চেয়েও পুরনো। ভূগর্ভস্থ টেকটনিক প্লেটের নানান ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী হয়ে রয়েছে এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। টেকটনিক প্লেটগুলো ভূঅভ্যান্তরের উত্তপ্ত ও গলিত ম্যাগমার উপরে ভাসমান অবস্থায় বিদ্যমান। টুকরো টুকরো এই সব প্লেটগুলোর অবস্থান সর্বদাই পরিবর্তিত হচ্ছে।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে হাজার বছর ধরে বাস করছে আমেরিকার আদিবাসীরা। এই গিরিখাতে যে বিশেষ জাতি বাস করেন তাদের নাম পুয়েব্লো। তারা এই গিরিখাতকে ডাকেন “Ongtupqa” নামে যার অর্থ – “বৃহৎ গিরিখাত”। তাদের এই নাম থেকেই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন নাম এসেছে। পুয়েব্লো জাতিরাই এই গিরিখাতে আসা প্রথম মানবজাতি। তবে এই বিশেষ আদিবাসীদের পূর্বপুরুষ কারা ছিলেন তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

কলোরাডো নদীর প্রবাহের ফলেই এমন বিশাল রূপ পেয়েছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। এই প্রবাহ এখনো চলমান। এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে আগামী ২০ লাখ বছর পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে – যা তাকে আরো “গ্র্যান্ড” করে তুলবে!