প্রকৃতির সিভিল ইঞ্জিনিয়ার

1899
bevar-web-feed

 

পর্বত কাছে না আসলে তুমিই পর্বতের কাছে যাও। জলাশয় পাওয়া না গেলে তুমিই জলাশয় তৈরি করে নাও – এই নীতিতেই বিশ্বাস করে বাদামী রংয়ের তুলনামূলক ছোটখাট আকৃতির প্রানীটি। এদের নাম বিভার। বিশ্বজোড়া এদের খ্যাতি আছে " প্রকৃতির সিভিল ইঞ্জিনিয়ার " হিসাবে।

ClassTune

বাসা বানানোয় এদের দক্ষতার জন্যই এমন খেতাব পেয়েছে তারা। বিভার Rodentia বর্গের Castoridae পরিবারভুক্ত প্রাণী। কানাডা ও উত্তর আমেরিকায় এই প্রাণীগুলোকে দেখা যায়। সাধারণত জলাশয়ের ধারে মাটি, পানি ও গাছের ডালপালা মিশিয়ে বাসা তৈরি করে এরা। বিভারের বাসস্থানের অপর নাম  " বিভার লজ " । এরা জল ও স্থল উভয় স্থানেই থাকতে পারে।

বিভারের বড় গুণ হলো এদের দলবদ্ধতা। বিপদ দেখলেই একটি বিভার পানিতে গিয়ে লেজ দিয়ে বাড়ি মেরে শব্দ তৈরি করে। এর ফলে বিভার সবাইকে সতর্ক করে দেয় যে বিপদ আসন্ন। ফলে অন্যরা লজের কাছে থাকলে বাসায় ঢুকে যায় অথবা ডুব মারে পানির তলায়। দম না নিয়ে ১৫মিনিট পানির নিচে থাকতে পারে এরা !

একটি বিভার লজে সাধারনত ১টি পুরুষ এবং কয়েকটি স্ত্রী বিভার থাকে। আর থাকে তাদের বাচ্চাকাচ্চা। বাচ্চা বড় হলে নিজেই নতুন বাসা বানানোর লক্ষ্যে বেড়িয়ে পড়ে। কাছাকাছি স্থানে বাসা বানালে খাবারের অভাব দেখা দিতে পারে, তাই তারা দূর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পছন্দসই জলাশয় পেলে সেখানে বানিয়ে নেয় বিভার লজ, আর সঙ্গিনীর সাথে কাটিয়ে দেয় বাকি জীবন।

আর যদি জলাশয় না পায় তা হলে?

তখন বিভার আশেপাশের এলাকায় জরিপ চালায়। যেমন বৃষ্টি হলে পানি কোন দিক দিয়ে বয়ে যাবে, নদীর পানি কোন দিকে প্রবাহমান ইত্যাদি। এরপর তারা দাঁত দিয়ে গাছ কেটে নামায়। নিজের শরীরের কয়েকগুন বড় গাছ এরা কেটে নামিয়ে ফেলতে পারে। তারপর গাছের ডালপালা নদীর পাড়ে জড়ো করে ছোটখাট একটি বাঁধের মতো তৈরি করে। পাথর ও কাদামাটি দিয়ে সৃষ্ট বাঁধের  ফাঁক ফোকড় বন্ধ করে দেয়। ব্যাস, হয়ে গেলো বিভার ড্যাম।

বর্ষার আগেই তার বিভার ড্যাম তৈরির কাজ শেষ করে। এরপর বর্ষার সময় বৃষ্টির পানিতে তৈরি হয় বিভারদের পছন্দের জলাশয়। সেখানে মহানন্দে বাস করতে থাকে তারা।

বিভার ড্যাম সাধারনত ১০-১০০মিটার লম্বা হয়। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আবিষ্কৃত বিভার ড্যামটি আধা মাইলের চেয়ে একটু বড়। কানাডার উড বাফেলো ন্যাশনাল পার্কে  এই বিশাল বিভার ড্যামটি অবস্থিত।