বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা

action-tech

১৯৯৯ সালের কথা। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং শ্রীলংকার ত্রিদেশীয় সিরিজ চলছে। সিরিজের এক ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বল করছিলেন স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন। বোলিং এর সময় হঠাৎই নো বল ডেকে বসেন আম্পায়ার রস এমারসন। একবার না, দু দুবার তিনি নো বল ডাকেন। কারণ দেখালেন, মুরালিধরন বল করার সময় তার হাতের কবজি বেশি বাঁকা করেছেন, যাকে ক্রিকেটীয় ভাষায় বলা হয় “চাকিং” বা Chucking.

এইতো ছয় -সাত মাস আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো পাকিস্তানের সাঈদ আজমল, শ্রীলংকার সাচিত্র সেনানায়েকে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারাইনকে। কারণ সেই একই, “চাকিং”। বাংলাদেশের সোহাগ গাজীও এই একই অভিযোগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করা থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলো।    

ClassTune

চাকিং কিভাবে হয় 

চাকিং তখনই হবে, যখন একজন বোলার বোলিং করার সময় তার কনুই ১৫ ডিগ্রীর বেশি প্রশস্ত করবে। আগে ফাস্ট বোলারদের জন্যে একরকম নিয়ম ছিলো, মিডিয়াম ফাস্ট বোলারদের জন্যে একরকম নিয়ম এবং স্পিনারদের জন্যে আলাদা নিয়ম ছিলো। অর্থাৎ, ফাস্ট বোলারদের জন্যে ছিলো হাত ১০ ডিগ্রীর বেশী বাঁকানো যাবে না, মিডিয়াম ফাস্ট বোলারদের জন্যে ছিলো সাড়ে সাত ডিগ্রী ও স্পিনারদের জন্যে ছিলো পাঁচ ডিগ্রী। কিন্তু নভেম্বর ২০১৪ তে সব ধরনের বোলিং অ্যাকশনে একই নিয়ম চালু করা হয়। 

যখন কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে বল চাক করার কোনো অভিযোগ আসে, তার বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হবার ২৪ ঘন্টার মধ্যে লিখিত আকারে প্রতিলিপি দিতে হয় আইসিসিকে। মূলত মাঠের আম্পায়াররা সন্দেহভাজন বোলারের বিরুদ্ধে ম্যাচ রেফারিকে অভিযোগ জানিয়ে থাকে। পরবর্তীতে ম্যাচ রেফারি লিখিত আকারে আইসিসিকে প্রতিলিপি দিয়ে থাকেন। প্রতিলিপি প্রদানের ২১ দিনের মধ্যে তাকে বোলিং অ্যাকশন টেস্ট করাতে হয়।

এই বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা করা হয় অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া এবং ইংল্যান্ডের কার্ডিফের বিশেষ ল্যাবরেটরিতে। কিছুদিন আগে চেন্নাইতেও একটি নতুন পরীক্ষাগার চালু করা হয়।  

বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার সময় প্রযুক্তির ব্যবহার 

অ্যাকশন পরীক্ষার সময় বোলারকে তার গড় গতিতে বোলিং করতে হয় এবং সে সম্ভাব্য যতরকমে বোলিং করে, সবগুলোই সেখানে করে দেখাতে হয়। এই সময় বোলারের শরীরে অসংখ্য ছোট ছোট সেন্সর যুক্ত করা থাকে। এ সেন্সরগুলোর মাধ্যমে বোলারের প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষন করা হয়। এছাড়া, বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা স্থানের আশেপাশে অনেকগুলো ক্যামেরার বসানো থাকে। ক্যামেরার মাধ্যমে বোলারের প্রতিটি অ্যাকশন নিবিড়ভাবে দেখা হয়। এছাড়া, পরীক্ষার সময় 3D Motion ক্যামেরা ও হাই-স্পিড ভিডিও ক্যামেরাও ব্যবহার হয়ে থাকে।  

কখনো কখনো দেখা যায় একজন বোলার সব বল ঠিক মতই করছে, কিন্তু বিশেষ ধরনের বল করার সময় তার অ্যাকশনটি নিয়ম বহির্ভূত হয়। যেমনঃ সাঈদ আজমলের দুসরা বল। এ বল করার সময় কনুই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কোণে বাঁকা হয়, যা নিয়মের বাইরে পড়ে। এ কারণে ঐ বোলারের জন্যে ঐ নির্দিষ্ট প্রকারের বোলিং অবৈধ করা হয়।