শিকার ঠেকাতে নাকে বসছে ক্যামেরা

পৃথিবীতে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী শিকার ক্রমেই বেড়ে চলছে। আর এর সবচেয়ে বড় শিকার গণ্ডার। গণ্ডারের মূল্যবান শিঙের কারণে এই প্রাণীটি প্রতিনিয়ত চােরা শিকারীদের হাতে মারা পড়ছে। যার কারণে এদের সংখ্যা কমে গিয়েছে আশঙ্কাজনকহারে। অতিরিক্ত শিকারের কারণে পুরো গণ্ডার প্রজাতিই পড়েছে হুমকির মুখে।

ClassTune

নানা ধরণের পদক্ষেপ নিয়েও কমানো যাচ্ছে না এই অবৈধ শিকার। তবে গণ্ডারদেরকে রক্ষা করার জন্য সম্প্রতি নেয়া হয়েছে এক নতুন পদক্ষেপ। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, যারা বন্যপ্রাণী হত্যা বন্ধে কাজ করছেন তাদের চােখ এড়িয়ে প্রাণীটিকে হত্যা করে চোরা শিকারীরা।

হত্যা করার আগ পর্যন্ত শিকারীদের কর্মকাণ্ড সর্ম্পকে কিছুই কিছু টের পান না সংশ্লিষ্টরা । তাই এবার বন্যপ্রাণী রক্ষায় ‘প্রোফিট’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত নিয়েছে হত্যা বন্ধে গণ্ডারের শরীরে ক্যামেরা স্থাপন করবে তারা।

RAPID (Real-Time Anti-Poaching Intelligence Device) নামের বিশেষ এই ক্যামেরা বসানো হবে গণ্ডারের নাকে। গণ্ডারের নাক ফুটো করে সেখানে বসানো হবে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এতে কোন ধরণের ব্যাথা পাবে না গণ্ডার।

তবে এই ডিভাইসে শুধু ক্যামেরাই নয়, একই সাথে থাকবে গণ্ডারের হার্টবিট মাপার সেন্সর এবং জিপিএস ট্র্যাকার। প্রতিনিয়ত একদল পর্যবেক্ষক গণ্ডারদের হার্টবিটের উপর লক্ষ্য রাখবে। যদি দেখা যায় কোন গণ্ডারের হার্টবিট হঠাৎ করে খুব বেড়ে গিয়েছে এবং হঠাৎ করেই থেমে গিয়েছে তাহলে বোঝা যাবে যে কোন সমস্যায় পড়েছে গণ্ডারটি।

তখন পর্যবেক্ষকরা ক্যামেরার মাধ্যমে দেখতে পারবেন কী ধরণের সমস্যা হয়েছে। যদি গণ্ডারটি শিকারের কবলে পড়ে তাহলে তারা সেটি বুঝতে পারবে এবং জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমের সেটির অবস্থান বের করে তৎক্ষণাৎ সেখানে হাজির হবেন। এতে শিকারিদের ধরে ফেলাও সহজ হবে।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে অবৈধ শিকারিদের ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। ক্যামেরায় শিকারিদের চেহারাও দেখা যাবে।

তবে পুরো কাজটিই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৬ সাল নাগাদ এটি বৃহৎ পরিসরে শুরু করতে পারবে তারা। পুরো ডিভাইসটি সূর্যশক্তির সাহায্যে চলবে। র‍্যাপিডের সাহায্যে শুধু গণ্ডারই নয়, বাঁচানো যাবে হাতি, সিংহ, বাঘ আর তিমির মত প্রাণীদেরও। বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রাণী এভাবে হয়তো বিলুপ্তির হাত থেকে বেঁচে যাবে।