৬টি কাজ আপনার সন্তানকে করে তুলবে চটপটে

0
38341

মানুষের জীবনে শখ বা হবি (hobby) খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সব বয়সী মানুষেরই কোন না কোন শখ থাকে। কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে কিছু শখ ছোটবেলা থেকে অভ্যাস করার জন্য উৎসাহ দিলে, সেগুলো তাদের বুদ্ধি বাড়িয়ে দেয়। করে তোলে চটপটে বা স্মার্ট।

ক্লিনিক্যাল সাইকোলোজিস্ট হাজেরা খাতুন চ্যাম্পস টোয়েন্টিওয়ান ডটকমকে বলেন, 'অনেক বাবা মা আছেন যারা শুধু চান তাদের সন্তান অনেক ভালো রেজাল্ট করুক।

অনেকেই শুধু পড়াশুনায় ভালো হওয়াটাকে নিজের সন্তানের বুদ্ধির বিকাশ বলে মনে করেন। কিন্তু বাচ্চাটিকে আরও বুদ্ধিদীপ্ত করা যায় যদি তার মধ্যে কোনো হবি বা শখ পালনের অভ্যাস তৈরি করে দেওয়া হয়।

কেননা শখ পালন শুধুমাত্র আনন্দদায়কই নয়, নিয়মিতভাবে এই শখ পালন করা হলে তা বাচ্চাটির মস্তিষ্কের জন্য বলদায়ক ও বুদ্ধি বিকাশে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অবশ্যই বাচ্চাটিকে এর জন্য জোর করা যাবে না”।

১. যে কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো
চৈনিক দার্শনিক কনফুসিয়াস বলেন 'সঙ্গীত মানব জীবনে এমন এক ধরনের আনন্দের সৃষ্টি করে যা ছাড়া মানুষের প্রকৃতি অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।
বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমানিত হয়েছে যে সঙ্গীত মানুষের মস্তিষ্কে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। বাদ্যযন্ত্র বাজালে ও সঙ্গীত শুনলে যে স্মৃতি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত।

যেহেতু বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে সময় ও দরকার হয়, তাই এর বাদ্যযন্ত্র শিখার মাধ্যমে একজনের ধৈর্য ও একাগ্রতা বাড়ে, সে অধ্যাবসায়ী হতে শিখে। তাছাড়া বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মাধ্যমে বাচ্চারা অধিক মনোযোগী হতে শিখে।  

২. বই পড়া
বাচ্চাদেরকে বই পড়তে উৎসাহী করা উচিত। সেটা যে কোনো ধরনেরই বই হোক না কেন। নানান বিষয়ের উপর অধিক বই পাঠের মাধ্যেমে একটি বাচ্চা অনেক জ্ঞান লাভ করতে পারে যা সে তার স্কুলের পাঠ্য বইগুলো থেকে নাও পেতে পারে।

বই পড়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের চাপ কমে ও বিভিন্ন ধরনের অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। এর কারনে একটি বাচ্চা নানা ধরনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারে। যার ফলে সে ব্যাক্তিগত জীবনে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে নিজের বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে।

৩. নতুন ভাষা শেখা
নতুন ভাষা শেখা খুব একটা সহজ না হলেও, এটি একটি বাচ্চাকে বুদ্ধিদীপ্ত করতে বা চটপটে করতে অনেক সাহায্য করে। কোন ইন্সটিটিউশনে সার্টিফিকেটের জন্য না শিখে, ইন্টারনেট দেখে বা ভাষা শেখার সাধারণ বইগুলো পড়ে নতুন একটি ভাষা শেখার জন্য আপনার সন্তানকে উৎসাহিত করুন।

নতুন ভাষা শেখার সময় বাচ্চাটির মস্তিষ্কের একেক অংশ একেক ভাষা  মনে রাখে। যার ফলে পরবর্তী জীবনে সে একই সাথে একাধিক কাজে মনোনিবেশ করতে পারে। যারা দ্বিতীয় কোন ভাষায় পারদর্শী তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত সহজেই নিতে পারে, খুব তাড়াতাড়ি পরিকল্পনা করতে পারে ও যে কোনো সমস্যা সহজে সমাধান করতে পারে।

৪. ডায়েরি লিখা
প্রতিদিন যা হচ্ছে, তা লিখে রাখার জন্য সন্তানকে পরামর্শ দিন। মেধা বিকাশের পাশাপাশি ডায়েরি লেখার অনেক উপকারিতা রয়েছে। ভাষাগত ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও বোধশক্তি বাড়িয়ে তোলে। ডায়েরি লেখার অভ্যাস শব্দের সাহায্যে মনোভাব প্রকাশ করতে সাহায্য করে এতে করে বাচ্চাটি বহির্মুখী হতে শিখে।

৫. খেলাধুলা
খেলাধুলার সাহায্যে পেশীর গঠনের পাশাপাশি মস্তিষ্কের গঠনও বৃদ্ধি পায়। খেলাধুলার মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। বাচ্চার নেতৃত্বদানের দক্ষতা বাড়ে, সে দায়িত্বশীল হতে শিখে ও একসাথে অনেকের সাথে কোন কাজ কিভাবে করতে হয় তা শিখতে পারে। যা তাকে অন্যদের চেয়ে চটপটে করে।

৬. রান্না করা
অনেক বাবা মা তাদের সন্তানকে রান্নাঘরে কাজ করতে দিতে চান না। হাত পা কেটে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা বাচ্চাদেরকে রান্না করায় উৎসাহী করেন না। কিন্তু নানা ধরনের খাদ্য রান্নার মাধ্যমে বাচ্চাদের বুদ্ধি ও মস্তিষ্কের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। তাদের কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি পায়। তারা মালটি-টাস্কার হতে শিখে। মাপ-পরিমাপ সম্পর্কে তাদের ধারনাও পরিষ্কার হয়। তবে নিরাপত্তার জন্য রান্নাঘরে তাদের একা কাজ করতে দেবেন না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন