সাত মহাদেশের সাত শীর্ষ চূড়া

Mount Everest Summit
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর সাত মহাদেশের সাতটি শীর্ষ চূড়াকে একসাথে “সেভেন সামিট” নামে ডাকা হয়। এই সাত পর্বত জয় করা যেকোনো পর্বতারোহীরই স্বপ্ন। তবে পর্বতারোহীরাতো শুধু স্বপ্ন দেখেই সন্তুষ্ট হন না, তারা স্বপ্নকে জয় করার জন্যও কাজ করেন।

১৯৮৫ সালের ৩০ এপ্রিল সর্বপ্রথম সেভেন সামিট জয় করার গৌরব অর্জন করেন রিচার্ড বাস নামের এক পর্বতারোহী। তিনি প্রমান করে দেন যে মানুষের পক্ষে অসাধ্যকেও সাধ্য করা সম্ভব। সেভেন সামিট নিয়ে বাংলাদেশেরও গর্ব করার মতো একটা ঘটনা আছে। ওয়াসফিয়া নাজনীন বাংলাদেশের প্রথম কোনো নারী হিসেবে সেভেন সামিট তথা সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছেন।

Seven Summit
ছবি : সংগৃহীত
ClassTune

এই সপ্ত শৃঙ্গ হচ্ছে:  এশিয়া মহাদেশের মাউন্ট এভারেস্ট (২৯০২৯ ফুট), দক্ষিন আমেরিকার অ্যাকোনকাগুয়া (২২৮৩৮ ফুট), উত্তর আমেরিকার মাউন্ট ম্যাককিনলে বা ডেনালি (২০৩১০ ফুট), আফ্রিকার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো (১৯৩৪১ ফুট), অ্যান্টার্কটিকার ভিনসন মাসিফ (১৬০৫০ ফুট), ওশেনিয়া প্লেটের পুঞ্চাক জায়া (১৬০২৪ ফুট) এবং ইউরোপের মাউন্ট এলব্রাস (১৮৫১০ ফুট)।

মাউন্ট এভারেস্ট

Mount Everest
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা ৮,৮৪৮ মিটার (২৯,০২৯ ফুট)  হিমালয় পর্বতমালার এই পর্বতশৃঙ্গে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন পড়েছিল আজ থেকে প্রায় ৬৩ বছর আগে। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমন্ড হিলারি এবং নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগে সর্বপ্রথম এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করার পর অনেক দেশের অভিযাত্রীর পা পড়েছে সেখানে। নেপালি ভাষায় এর নাম সাগরমাথা (আকাশের দেবী)ও তিব্বতি ভাষায় এর নাম চোমোলুংমা (মহাবিশ্বের দেবী মা)। এছাড়া, ১৯৭৫ সালের ১৬ মে জাপানের জুনকো তাবেই প্রথম নারী  হিসেবে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন। উচ্চতা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বাতাস ইত্যাদি কারণে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ বেশ বিপদজনক।বিশেষত ডেথ জোন এ আবহাওয়া এতোটাই প্রতিকূল যে বেশিরভাগ সময় হতভাগ্য পর্বতারোহীর মৃতদেহ সেখান থেকে উদ্ধার করা সম্ভবপর হয় না।

অ্যাকোনকাগুয়া

Akonkagua
ছবি : সংগৃহীত

অ্যাকোনকাগুয়া দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৬,৯৬১ মিটার বা ২২,৮৩৮ ফিট এবং এশিয়ার বাইরে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত। আর্জেন্টিনার আন্দিজ পর্বতমালার মাঝে অবস্থিত এই পর্বত। অ্যাকোনকাগুয়া পর্বত চিলির সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে। অ্যাকোনকাগুয়া পর্বত এবং এর সংলগ্ন এলাকা অ্যাকোনকাগুয়া জাতীয় উদ্যানের অর্ন্তভুক্ত। এই পর্বতে একাধিক হিমবাহ বিদ্যামান রয়েছে। সবচেয়ে বড় হিমবাহ Ventisquero Horcones Inferior প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। অপর দুইটি বড় হিমবাহ হলো Ventisquero de las Vacas Sur এবং Glaciar Este যাদের প্রতিটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। তবে সবচেয়ে পরিচিত হিমবাহটি হলো উত্তর-পূর্বের পোলিশ হিমবাহটি কারণ এটি পর্বতটির চূড়ায় আরোহনের প্রচলিত পথ।

ডেনালি পর্বত

denali summit
ছবি : সংগৃহীত

ডেনালি পর্বতকে মাউন্ট ম্যাককিনলে নামেও ডাকা হয়। আলাস্কা পর্বতমালায় ডেনালি জাতীয় পার্ক ও সংরক্ষণস্থলে অবস্থিত একটি পর্বত। সমুদ্রতল থেকে এটির উচ্চতা ৬,১৯০ মিটার বা ২০,৩১০ ফিট এবং ডেনালিই উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত। আলাস্কা পর্বতমালার এই পর্বতটি অতি ঠাণ্ডা তাপমাত্রার জন্য পরিচিত। এই পর্বতের তাপমাত্রা -৭৫.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট(-৫৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস)পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

কিলিমাঞ্জারো

Mount Kilimanjaro
ছবি : সংগৃহীত

আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কিলিমাঞ্জারো। সোয়াহিলি ভাষায় “কিলিমা” অর্থ পাহাড় আর “জারো” অর্থ চকচকে বা সাদা। তাঞ্জিনিয়াতে অবস্থিত এই পর্বতটির আগ্নেয়গিরি থেকে উৎপন্ন তিনটি শৃঙ্গ রয়েছে। উচ্চতর শৃঙ্গটির নাম কিবো এবং এটি সমুদ্র সমতল থেকে ৫,৮৯৫ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। মাওয়েসি শৃঙ্গটি ৫,১৪৯ মিটার উঁচুতে ও শিরা নামের অপর শৃঙ্গটি ৪,০০৫ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। কিবো একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং অপরদিকে মাওয়েসি ও শিরা মৃত আগ্নেয়গিরি।অতীতে এই পর্বতের শীর্ষে প্রচুর বরফ থাকলেও ১৯১২ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এই পর্বতের শীর্ষের বরফের পরিমান ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, ২০৪০ সালের মাঝে এই পর্বতের বরফ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যেতে পারে।

ভিনসন ম্যাসিফ

Vinson Massif Summit
ছবি : সংগৃহীত

ভিনসন ম্যাসিফ একটি স্তূপপর্বত যা দৈর্ঘ্যে ২১ কিমি, প্রস্থে ১৩ কিমি এবং যা অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। পর্বতশৃঙ্গটি ৪,৮৯২ মিটার উঁচু। পর্বতটি এলসওয়ার্থ ল্যান্ডের পর্বতমালার একটি অংশবিশেষ এবং যেখানে অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের সাথে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত।ভিনসন স্তূপপর্বত পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার অন্যান্য পর্বতের মত আগ্নেয় প্রকৃতির। দক্ষিন মেরু থেকে ৭৫০ মাইল দূরে অবস্থিত এই পর্বতের বৈরি আবহাওয়ার জন্য এর শীর্ষে আরোহণ করা অনেকটাই দুঃসাধ্য। ১৯৬৬ সালে এই পর্বতে প্রথম আরোহন করা হয়।

পুঞ্চাক জায়া

Puncak Jaya
ছবি : সংগৃহীত

ওশেনিয়া প্লেটে অবস্থিত পুঞ্চাক জায়া ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। নিউ গিনি দ্বীপের পশ্চিমাংশে পাপুয়া প্রদেশে অবস্থিত পুঞ্চাক জায়া পর্বতটি ৪,৮৮৪ মিটার উঁচু। “পুঞ্চাক জায়া” এর অর্থ বিরাট পর্বতশৃঙ্গ। ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এর চূড়া সবসময় বরফাবৃত থাকে ও এই পর্বতকে Carstensz Pyramid নামেও ডাকা হয়। এর শীর্ষে আরোহণের জন্য সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয় কারণ এই পর্বতের মাঝে পৃথিবীর অন্যতম বড় মাইন রয়েছে।

মাউন্ট এলব্রাস

mount elbrus
ছবি : সংগৃহীত

এলব্রাস পর্বত রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের দক্ষিণাংশে ও জর্জিয়ার সাথে রাশিয়ার সীমান্তের ঠিক উত্তরে অবস্থিত একটি পর্বত। পর্বতটি ককেশাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ এবং গোটা ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। পর্বত হলেও আসলে এটি একটি আগ্নেয়গিরি। বর্তমানে এই আগ্নেয়গিরি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে।এলব্রাস পর্বতের দুইটি জ্বালামুখ আছে। একটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫,৬৪২ মিটার এবং অপরটি ৫,৬২১ মিটার উঁচুতে অবস্থিত।

সূত্রঃ Wikipedia