বৈচিত্র্যময় কিছু জনগোষ্ঠীর কথাঃ ইনকা সাম্রাজ্য

Inka-intiraymi

আদিবাসী, গোত্র বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে এমন এক ধরণের জাতিকে বোঝায় যারা কোন রাষ্ট্র গঠন করতে পারেনি কিন্তু রয়েছে তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, আচার, রীতি ইত্যাদি। সমগ্র পৃথিবী জুড়েই বিভিন্ন দেশে-মহাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে এরকম অসংখ্য গোত্র বা জনগোষ্ঠী। নিজেদের সংস্কৃতি আর রীতিনীতি দিয়ে এরা একটা দেশের সমাজব্যবস্থাকে করে তোলে আরও বৈচিত্রময়। এরকম কিছু জনগোষ্ঠী নিয়েই এই আয়োজন। আজ জানবো দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সাম্রাজ্য সম্পর্কে।

প্রি-কলাম্বিয়ান যুগে দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা অঞ্চলে প্রথম দেখা যায় ইনকা গোষ্ঠীকে। ধীরে ধীরে সামরিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে তারা গড়ে তোলে ইনকা সাম্রাজ্য। বর্তমান পেরুর কুজকো নামক অঞ্চলে ১৩শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে এই সাম্রাজ্য গড়ে উঠে।

ClassTune

সামরিক দিক দিয়ে ইনকা গোষ্ঠী ছিল খুবই শক্তিশালী। এরা ধীরে ধীরে বিশাল এক সাম্রাজ্য তৈরি করে। এই সাম্রাজ্য পরিচিত ছিল তাওয়ান-তানসু নামে। এই সাম্রাজ্য ইকুয়েডরের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে চিলির মধ্যভাগ পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হয়। এই সাম্রাজ্যের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি বিশ লাখ। এই জনসংখ্যার ছিল ১০০টিরও বেশি গোত্রের সমন্নয়।

ইনকা সম্প্রদায়ের সৃষ্টি নিয়ে বেশ কিছু মিথ আছে। জনপ্রিয় একটা মিথ অনুযায়ী, ইনকাদের সৃষ্টি হয় সূর্য দেব ইন্তির হাতে। সূর্যদেব তার ছেলেকে পৃথিবীতে পাঠান একটা গ্রামের তিনটি গুহার মধ্য দিয়ে। সূর্যদেবের ছেলে তার বোন এবং অনুসারীদের নিয়ে আন্দিজ পর্বতমালায় পৌছায়। সেখান থেকে আস্তে আস্তে ইনকা গোষ্ঠীর উদ্ভব।

ইনকা গোষ্ঠীর মূল অর্থনীতি ছিল কৃষি নির্ভর। কৃষি কাজের ভার থাকতো মেয়েদের উপর। বাচ্চা লালনপালন এবং ঘরের কাজের দায়িত্ব ও ছিল মেয়েদের কাঁধে। পুরুষেরা সাধারণত পশু পাখি শিকার করতে বের হতো। ১০০ টা গোত্র হওয়া সত্ত্বেও ইনকা সম্প্রদায়ের মূল ঐক্য ছিল তাদের ধর্ম। প্রায় সব গুলো গোত্রের ধর্ম ছিল এক। ইনকারা মূলত সূর্যের পূজা করতো। নিজেদেরকে তারা সূর্যের সন্তান বলে মনে করতো।

Inca

ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকে স্পেনের কিছু নাবিক ইনকা সাম্রাজ্য আবিষ্কার করে। ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে আস্তে আস্তে স্প্যানিশরা এখানে ভিড় করতে থাকে। এদের সাথে সাথে গুটি বসন্ত রোগ এই অঞ্চলে প্রবেশ করে। রোগটি মহামারি আকার ধারন করলে প্রায় অর্ধেকের বেশি ইনকাবাসী আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

১৫৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইনকা রাজা আতাহুয়ালপাকে স্পেনীয়রা রাত্রিকালীন ভোজে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ দেয়। আতাহুয়ালপা ভোজে অংশগ্রহণ করলে, তাকে সেখান থেকে অপহরণ করা হয়। সেই সময় ইনকা গোষ্ঠীর লোকজন থেকে স্পেনীয়দের সংখ্যা ছিল বেশি। উন্নত মানের সমর অস্ত্রের কাছে ইনকা গোষ্ঠীর পরাজয় হয়। ইনকা সম্রাজ্যের রাজাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে স্পেন সেখানে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করে।

১৯১১ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ হিরাম বিংহাম পৃথিবীর নজরে নিয়ে আসেন ইনকা সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন মাচু পিচু। আন্দিজ পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ইনকাদের কাছে পবিত্র স্থান বলে বিবেচিত ছিল। এছাড়াও তিনি একটি অক্ষত দূর্গ খুঁজে পান। পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা পাথরের আকৃতি ইনকা সম্রাজ্যের ঐতিহ্য প্রদর্শন করে।