খাবারের পুষ্টিগুন নিয়ে ভুল তথ্যগুলাে জানুন

2727
Food Myth
ছবি : সংগৃহীত

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিয়ে আমরা সকলেই কমবেশি চিন্তিত। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাবার সর্ম্পকিত প্রচলিত তথ্য জেনেই আমরা আমাদের পাণ্ডিত্য জাহির করি। এ বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিজ্ঞানীদের শরনাপন্ন হন খুব কম মানুষই। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকা খাবার সর্ম্পকে প্রচলিত ভুল তথ্য নিয়েই আমাদের এই আয়োজন-

১. ডিমের সাদা অংশই শুধুমাত্র উপকারী
যারা মোটা হয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত তারা বেশিরভাগই ডিমের সাদা অংশটুকু খান, কুসুম খান না। ডিমের এই সাদা অংশে ৪০ শতাংশ প্রোটিন থাকে এবং ৯০ শতাংশ ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন বি থাকে। কিন্তু কুসুমে যে ফ্যাট থাকে সেটাও আমাদের দেহের জন্য দরকারি। কিন্তু সবাই চিন্তিত কোলেস্টেরল নিয়ে। গবেষণা বলছে, খাবারের কোলেস্টেরল আমাদের দেহের জন্য তেমন কোন ক্ষতিই করে না। প্রতিদিন একটি করে ডিম খেলে হৃদরোগের তেমন কোন ঝুঁকি তৈরি হয় না।

ClassTune

২. ফ্যাট-ফ্রি অথবা লো-ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার খেতে হবে
দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর ফ্যাট থাকে বলে অনেকেই তা খেতে চান না। কিন্তু এই ফ্যাট সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং এই ফ্যাট কমানোর জন্য ফ্যাট-ফ্রি অথবা লো-ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবারে বিভিন্ন কৃত্রিম উপাদান যোগ করা হয় যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৩. আলু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়
আলু স্বাস্থ্যের তেমন উপকারে আসে না বলে মনে করে অনেকেই আলু খেতে চান না। কিন্তু আলুতে প্রচুর প্রমাণ আঁশ থাকে যা মানুষের হজম প্রক্রিয়াকে সুস্থ রাখে। এছাড়া প্রচুর পটাসিয়াম পাওয়া যায় আলু থেকে।

৪. ডায়েট সোডা ওজন কমায়
ডায়েট সোডা ওজন কমাতে সাহায্য করে বলে অনেকেই ধারণা করে থাকেন। কিন্তু সোডা ডায়েট হোক বা রেগুলার তা আপনার ক্ষতি করবেই। সোডায় প্রচুর পরিমাণে কৃত্রিম চিনি মেশানো হয় যা আপনার খিদে বাড়িয়ে দেয় এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয়। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রমকেও ব্যাহত করে এই সোডা। তাই রেগুলার বা ডায়েট কোন সোডাই খাওয়া যাবে না। যে কোনো সোডাই দেহের জন্য ক্ষতিকর।

৫. কফি ক্রিম স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
কফিতে দুধের পরিবর্তে অনেকেই কফি ক্রিম ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এসব কফি ক্রিম যেসব উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় তা আমাদের দেহের জন্য সুফল বয়ে আনে না। তাই কফি ক্রিমের পরিবর্তে আসল দুধ ব্যবহার করাই উত্তম অথবা সয়া মিল্ক, আলমন্ড মিল্ক বা কোকোনাট মিল্কও খাওয়া যেতে পারে।