জলবিদ্যুৎ উৎপাদন

 

পানি শক্তির অন্যতম উৎস। পানির স্রোত ও জোয়ারভাটাকে কাজে লাগিয়ে শক্তি উৎপাদন করা যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পানির প্রবাহ ও স্রোতকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। একে বলা হয় জলবিদ্যুৎ। 

পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পানির বিভব শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। প্রথমেই বিভব শক্তি কি সেটা তোমাদের বুঝিয়ে বলছি। স্বাভাবিক অবস্থা বা অবস্থান থেকে পরিবর্তন করে কোন বস্তুকে অন্য কোন অবস্থা বা অবস্থানে আনলে বস্তু কাজ করার যে সামর্থ্য অর্জন করে তাকে বিভব শক্তি বলে। যেমনঃ আমরা যখন কোন বস্তুকে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে তুলি তখন আমরা পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কাজ করি। ফলে বস্তুটি কিছু বিভব শক্তি লাভ করে। এখন বস্তুটিকে ছেড়ে দিলে আবার যখন ভূপৃষ্ঠে পড়বে তখন সেটি ঐ পরিমাণ কাজ করতে পারবে।

পানিকে যখন বাঁধ দিয়ে আটকানো হয় তখন পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। পানির তলের উচ্চতা বৃদ্ধি বা এর গভীরতা বৃদ্ধির ফলে পানির মধ্যে অধিক বিভব শক্তি জমা হয়। কোন পাহাড়ের উপত্যকায় নিচের প্রান্তে বাঁধ দিয়ে এই কাজটি সাধারণত করা হয়ে থাকে। নদী থেকে আসা পানি প্রবাহ বাঁধে বাধা পেয়ে জমা হতে থাকে, এতে বাঁধের পেছনে একটি কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি হয়। হ্রদ পানিতে পূর্ণ হয়ে গেলে হ্রদ থেকে পানি একটি মোটা নলের ভিতর দিয়ে নিচে অবস্থিত একটি তড়িৎ উৎপাদন কেন্দ্রে প্রবাহিত করা হয়। পানি পতনের সময় এর মধ্যে জমা থাকা বিভব শক্তি গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি টার্বাইনকে ঘোরানো হয়। টার্বাইন হচ্ছে ব্লেডযুক্ত একটি চাকা। টার্বাইনটি একটি তড়িৎ জেনারেটরের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। এই জেনারেটরে তড়িৎ বা বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন এই তড়িৎ এরপর তারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশে ব্যবহৃত বিদ্যুতের একটি অংশ জলবিদ্যুৎ। এই জলবিদ্যুত আসে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাইতে অবস্থিত কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ তৈরি করে এ জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

 

 

 

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন