বর্ষসেরা অভিযাত্রী ওয়াসফিয়া

wasfia-nazreen

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ২০১৪-১৫ সালের বর্ষসেরা অভিযাত্রীর তালিকায় নির্বাচিত হয়েছেন বাঙালি নারী অভিযাত্রী ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী ওয়াসফিয়া নাজরীন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক এই ম্যাগাজিনটি গত শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে এ ঘোষণা দেয়।

তবে শুধু ওয়াসফিয়াই নন, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০ জন অভিযাত্রীকে নির্বাচিত করেছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি।

বাংলাদেশের মেয়ে ওয়াসফিয়া নাজরীন নির্বাচিত হয়েছেন একজন সমাজকর্মী হিসেবে।

ওয়াসফিয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশী নারী হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন।

২০১২ সালের ২৬ মে তিনি হিমালয় পর্বতমালার ওই চূড়ায় পা রাখেন। তবে তারপরই থেমে যাননি ওয়াসফিয়া।

‘সেভেন সামিট’ বা পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

এটি ছিল তার একটি সামাজিক আন্দোলন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নারীর উন্নয়নকে দ্রুত করার লক্ষ্যেই তিনি এই আন্দোলন শুরু করেন।

এরপর প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ওয়াসফিয়া দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অ্যাকাংকাগুয়া জয় করেন, তারপর একে একে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ চূড়া মাউন্ট ডেনালি, ইউরোপের সবচাইতে উঁচু পর্বত মাউন্ট এলব্রুস এবং এন্টার্টিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভিন্সন ম্যাসিফে আরোহণ করেন।

৬টি শৃঙ্গ জয়ের পর ওয়াসফিয়ার নজর এখন সপ্তম চূড়ার দিকে। ওশেনিয়া মহাদেশের কার্সটেন্সজ পিরামিডে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি এ মাসের শেষ দিকে।

বাংলাদেশের মত একটি সমতল দেশে থেকে কিভাবে তিনি এরকম একজন পর্বতারোহী হয়ে উঠলেন নেট জিওর এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াসফিয়া বলেন, 'তিনি প্রায় ৪ বছর তিব্বত এবং নেপালের বিভিন্ন পার্বত্য অঞ্চলে সোশ্যাল ক্যাম্পেইন করেছেন। সেখান থেকেই তিনি তার সাহস এবং অনুপ্রেরণা দুটোই পেয়েছেন।'

সম্প্রতি ওয়াসফিয়া 'ওসেল ফাউন্ডেশন' নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন যেখানে তিনি নারীদের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ করে দিতে চান এবং একই সঙ্গে নারীদের ঘর থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসার উৎসাহ দিতে চান।