বিশ্বকাপের দল পরিচিতি: দক্ষিণ আফ্রিকা

2234

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১১তম আসর। আর মাত্র ২দিন পরেই মাঠে গড়াবে এ ক্রিকেট মহাযজ্ঞ। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের ভেন্যুতে গড়াচ্ছে বিশ্ব সেরার লড়াই। এবার এতে অংশ নিচ্ছে ১৪টি দল। বিশ্বকাপের এই দলগুলোর ধারাবাহিক পরিচিতির ১০ম পর্বে আজ থাকছে 'দক্ষিণ আফ্রিকা'

বর্ণবাদের অভিযোগে ১৯৭০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পরের বছরই ১৯৯২ সালে প্রথমবার অংশ নেয় ক্রিকেটের বিশ্বকাপে। এবারের স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডেই সেই বিশ্বকাপ হয়েছিল। ১৯৯২ সালের এই টুর্নামেন্টে বেনসন এন্ড হেজেস বিশ্বকাপ নামেই পরিচিত।

প্রথমবার অংশ নিয়েই সেমিফাইনাল খেলে তারা। ফাইনালেই উঠে যেতে পারত এই দলটি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল মাত্র ১৩ বলে ২২ রানের। কিন্তু ১০ মিনিটের বৃষ্টিজনিত কারণে খেলা শেষে যে ফলাফল হয়, তা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। বিতর্কিত বৃষ্টি আইনে তাদের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয় ১ বলে ২১ রান, যা অসম্ভব ব্যাপার ছিল। আর এতেই প্রোটিয়াসদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে এই বৃষ্টি আইন পরিবর্তন করা হয়, যা ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি বা ডি/এল (D/L) মেথড নামে পরিচিত।

কিন্তু তাতেও প্রোটিয়াসদের বিশ্বকাপ ভাগ্যে কোন হেরফের হয়নি। ক্রিকেট বিশ্বে ফেভারিট তকমা থাকার পরও নকআউট পর্ব থেকে বার বার ফেরত এসেছে দক্ষিণ অফ্রিকা। যার কারণে দলটিকে চোকার হিসেবেও চিনে ক্রিকেট বিশ্ব। এবারের বিশ্বকাপে তারা চোকার অপবাদ ঘোচাবে এমনটাই আশা। ১৯৯৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে তাদের দৌড় থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালেই।

১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে আবারো সেমিফাইনালে ওঠে আফ্রিকান এই দলটি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১ রান নিতে না পারায় ম্যাচটি টাই হয়। আগের রাউন্ডের হেড টু হেডের সমীকরণে বাদ পড়ে তারা। এরপর ঘরের মাঠে হওয়া ২০০৩ বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল দ. আফ্রিকা।

তবে নকআউট পর্বের ম্যাচটি বৃষ্টি আইনে হারতে হয় দলটিকে। আর স্মিথের অধিনায়কত্বে ২০০৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারো অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায়। সর্বশেষ ঢাকায় ২০১১ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেয় দলটি। এ পর্যন্ত তারা ৬টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মোট খেলেছে ৪৭টি ম্যাচ, জিতেছে ৩০টি, হেরেছে ১৫টি, এবং ২টি টাই ম্যাচ হয়েছে। 

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে নিজেদের ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান দলপতি গ্রায়েম স্মিথ। প্রতিবারের মত এবারো তারা হট ফেভারিটের তকমা নিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই যথেষ্ট শক্তিশালী আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংঙ্কিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা। ফিল্ডিংয়ে তাদের সুনাম রয়েছে আগের মতই অটুট।

কদিন আগেই ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরি করা এবি ডি ভিলিয়ার্স এবার প্রোটিয়াদের নেতৃত্ব দেবেন। হাশিম আমলা, কুইন্টন ডি কক, জেপি ডুমিনি, ফ্যাফ ডু প্লেসিসের মতো তারকা ব্যাটসম্যানরা দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে আলো ছড়াবেন।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা পেসার ডেল স্টেইন বল হাতে ঝড় তুলতে প্রস্তুত। তার সঙ্গী হিসেবে আছেন মরনে মরকেল, ওয়েইন পারনেল, ভারনন ফিল্যান্ডার। স্পিনেও আছেন দলকে ভরসা দেয়ার মত লেগ স্পিনার ইমরান তাহির, বাঁহাতি অর্থডক্স বোলার অ্যারন ফাঙ্গিসো, অফস্পিনার জেপি ডুমিনি।

বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’তে তাদের প্রতিপক্ষ  পাকিস্তান, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারী হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

এক নজরে 'দক্ষিণ আফ্রিকা' দল:

বিশ্বকাপে অংশগ্রহন: ১৯৯২ থেকে সবগুলো বিশ্বকাপ।

সেরা সাফল্য: তিন বার সেমিফাইনাল খেলা (১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭)

কোচ: রাসেল ডোমিঙ্গো (দক্ষিণ আফ্রিকা)

এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াড: এবি ডি ভিলিয়ার্স (অধিনায়ক), হাশিম আমলা, কাইল অ্যাবট, ফারহান বেহারডিয়েন, কুইন্টন ডি কক, জেপি ডুমিনি, ফ্যাফ ডু প্লেসিস, ইমরান তাহির, ডেভিড মিলার, মরনে মরকেল, ওয়েইন পারনেল, অ্যারন ফাঙ্গিসো, ভারনন ফিল্যান্ডার, রিলি রুশো ও ডেল স্টেইন।

যারা নজর কাড়তে পারেন: এবি ডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলা।

বিশ্বকাপ মিস করছেন এমন তারকা: রায়ান ম্যাকলারেন, রবিন পিটারসন।